রাজ্য

বক্সায় বাঘ ফেরানোর নতুন অধ্যায়, বিহার থেকে আনা তিন বছরের বাঘিনি মুক্ত

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পে বাঘের স্থায়ী আবাস ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল বন দফতর।
  • শুক্রবার, ২ অক্টোবর, বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প থেকে আনা তিন বছরের একটি বাঘিনিকে বক্সায় ছাড়া হয়েছে।
  • অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পে বাঘের স্থায়ী আবাস ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল বন দফতর। শুক্রবার, ২ অক্টোবর, বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প থেকে আনা তিন বছরের একটি বাঘিনিকে বক্সায় ছাড়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাঘিনিটির পরিচিতি ‘টি১৩৮’। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বক্সায় পর্যায়ক্রমে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের কর্মসূচি শুরু হল।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দু’মাসে আরও তিনটি বাঘ বক্সায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বক্তব্য, লক্ষ্য এমন একটি বাঘের গোষ্ঠী গড়ে তোলা, যারা এই অরণ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে, প্রজনন করবে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে নিজেদের সংখ্যা ধরে রাখতে পারবে। ভবিষ্যতে কতগুলি বাঘ আনা হবে, তা নির্ভর করবে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের উপর। পরবর্তী সময়ে বাঘ আনার আগে বাঘিনির মানিয়ে নেওয়ার তথ্যও বিবেচনা করা হবে।

বাঘিনিটিকে উত্তরবঙ্গে আনার ব্যবস্থাও ছিল বিশেষ। বুধবার ভোরে সামরিক পরিবহণ বিমানে তাকে হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বক্সায়। পশুচিকিৎসকদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরে প্রথমে তাকে বিশেষ ঘেরাটোপে রাখা হয়েছিল। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। স্থানান্তরের সময় প্রাণীটির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের উপর বিশেষ নজর রাখা হয়।

বাঘিনিটির গলায় জিপিএসযুক্ত রেডিয়ো কলার পরানো রয়েছে। এর সাহায্যে তার অবস্থান এবং চলাচলের তথ্য পাবেন গবেষক ও বনকর্মীরা। পাশাপাশি থাকবে ক্যামেরার ফাঁদ এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারি। সে কোথায় শিকার করছে, কোন এলাকায় ঘুরছে, মানুষের বসতির দিকে যাচ্ছে কি না এবং নিজের বিচরণক্ষেত্র তৈরি করতে পারছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাজাভাতখাওয়ার নজরদারি কেন্দ্রেও পৌঁছবে কলারের তথ্য।

তবে আট বছর পরে বক্সায় বাঘ ফেরার খবরের সঙ্গে একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। এই সময়ে বক্সায় কোনও বাঘেরই আনাগোনা ছিল না, এমন নয়। ২০২১, ২০২৩ এবং ২০২৬ সালে ক্যামেরার ফাঁদে বাঘের ছবি ধরা পড়েছে। একটি বাঘের সঙ্গে অসমের মানসের বাঘের পরিচিতিও মিলেছিল। মূল সমস্যা ছিল দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী, প্রজননক্ষম বাঘের গোষ্ঠীর অভাব। নতুন কর্মসূচি সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা।

১৯৮৩ সালে বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প তৈরি হয়। ভুটান এবং অসমের বনাঞ্চলের সঙ্গে এর প্রাকৃতিক সংযোগ রয়েছে। কিন্তু বনভূমির অবনতি, আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে যাওয়া, জমির ব্যবহার বদল এবং শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাঘের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই বাঘ ফেরানোর প্রস্তুতির সঙ্গে অরণ্যের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজও চালানো হয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় এই প্রস্তুতি চলেছে। বাঘের খাবারের জোগান বাড়াতে আটশোর বেশি চিতল হরিণ ছাড়া হয়েছে। প্রায় ৩৮০ হেক্টর তৃণভূমি পুনরুদ্ধার বা তৈরি করা হয়েছে। বাঘিনির স্থানান্তর ও মুক্তির কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সায় পর্যটন বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়। জিপ সাফারি, দিনের সফর এবং জঙ্গলের ভিতরে রাত কাটানো এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

এই কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণেও জোর দেওয়া হয়েছে। যুক্ত রয়েছে ৬৪টি ইকো-ডেভেলপমেন্ট বা যৌথ বন পরিচালন কমিটি। মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানো, জীবিকার সুযোগ এবং সংরক্ষণের সুফল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া পরিকল্পনার অঙ্গ। বাঘের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে গ্রামের মানুষের সহযোগিতাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য, সাফল্যের মাপকাঠি হবে বক্সায় কতগুলি বাঘ ছাড়া হল, শুধু সেই সংখ্যা নয়। নিরাপদ আবাস, পর্যাপ্ত শিকার, কার্যকর সুরক্ষা এবং নিয়মিত বৈজ্ঞানিক নজরদারির মধ্যে বাঘেরা স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকতে ও বংশবিস্তার করতে পারছে কি না, সেটিই আসল পরীক্ষা। তিন বছরের বাঘিনির আগমন সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles