খবর

খারিজ ইলাইয়ারাজার

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • গানের কপিরাইট নিয়ে সারেগামার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে আপাতত ধাক্কা খেলেন সুরকার ইলাইয়ারাজা।
  • ‘মুডু পানি’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘এন ইনিয়া পোন নিলাভে’-র পুনর্নির্মিত সংস্করণ ব্যবহারের বিরোধে দিল্লি হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট।
  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ ইলাইয়ারাজার বিশেষ অনুমতির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

গানের কপিরাইট নিয়ে সারেগামার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে আপাতত ধাক্কা খেলেন সুরকার ইলাইয়ারাজা। ‘মুডু পানি’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘এন ইনিয়া পোন নিলাভে’-র পুনর্নির্মিত সংস্করণ ব্যবহারের বিরোধে দিল্লি হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ ইলাইয়ারাজার বিশেষ অনুমতির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে ভেলস ফিল্ম ইন্টারন্যাশনালের ছবি ‘অঘাথিয়া’। ছবিতে ‘এন ইনিয়া পোন নিলাভে’ গানটির নতুন সংস্করণ ব্যবহার করা হয়। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, ইলাইয়ারাজার সঙ্গে চুক্তি করেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে আপত্তি জানায় সারেগামা।

সংস্থাটির দাবি, ‘মুডু পানি’র মূল সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের স্বত্ব তারা ছবির প্রযোজকের কাছ থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে পেয়েছে। ফলে শুধু সুরকারের অনুমতি নিয়ে ওই রেকর্ডিং ব্যবহার করা যায় না। সারেগামা হাইকোর্টে জানিয়েছিল, ১৯৮০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির একটি চুক্তির ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট রেকর্ডিংয়ের স্বত্ব তাদের হাতে এসেছে।

এই বিরোধ থেকেই আদালতের লড়াই। দিল্লি হাইকোর্টের একক বেঞ্চ প্রথমে সারেগামার পক্ষে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান ইলাইয়ারাজা। গত মে মাসে বিচারপতি সি হরি শঙ্কর ও বিচারপতি ওম প্রকাশ শুক্লার বেঞ্চ তাঁর আবেদন খারিজ করে। পরে পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুরকার।

হাইকোর্টের মূল পর্যবেক্ষণ ছিল, একটি গানের সুর বা সংগীত রচনার অধিকার আর তার সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের অধিকার এক জিনিস নয়। ইলাইয়ারাজার অধিকার গানটির সুর বা সংগীত রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ; তা থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে গানের কথা কিংবা মূল সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের মালিকানা তৈরি হয় না। ফলে নিজের হাতে থাকা অধিকারের বাইরে গিয়ে অন্য প্রযোজনা সংস্থাকে অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না।

সেই কারণেই হাইকোর্টের মতে, ‘মুডু পানি’র সংশ্লিষ্ট সাউন্ড রেকর্ডিং ব্যবহারের জন্য সারেগামার অনুমতি প্রয়োজন। আর এই পৃথক অধিকার নিয়েই মূল বিরোধ।

সুপ্রিম কোর্টে ইলাইয়ারাজার হয়ে প্রবীণ আইনজীবী সি আর্যমা সুন্দরম অবশ্য এই পর্যবেক্ষণের ব্যাপক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই আরও তিনটি মামলা হয়েছে। সুরকার হিসেবে ইলাইয়ারাজার স্বতন্ত্র অধিকারকে খাটো করে দেখা হলে কপিরাইট আইনে মূল সৃষ্টির জন্য যে সুরক্ষা রয়েছে, তার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে বলেও তিনি যুক্তি দেন।

সুন্দরম ১৯৫৭ সালের কপিরাইট আইনের ১৩(৪) ধারার উল্লেখ করে বলেন, কোনও সংগীত রচনা চলচ্চিত্র বা সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের অংশ হয়ে গেলেও তার পৃথক কপিরাইট একেবারে বিলীন হয়ে যায় না। তাঁর যুক্তি, সুরের অভিযোজনের অধিকার এবং নির্দিষ্ট সাউন্ড রেকর্ডিং ব্যবহারের অধিকারকে এক করে দেখা উচিত নয়।

শুনানিতে তিনি আরও জানান, একক বেঞ্চের নির্দেশ মেনে প্রযোজকেরা ৩০ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্য, আপত্তির মূল জায়গা অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত নয়, বরং ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ। ইলাইয়ারাজার পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী স্বাতী সুকুমারও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। সারেগামার হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সারেগামাকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে গিয়ে হাইকোর্ট এমন কোনও ভুল করেনি, যার জন্য শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে সুন্দরমের আবেদনের পর বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দেয়—হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণগুলি প্রাথমিক বা অন্তর্বর্তী পর্যায়ের। মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সময় সেগুলিই শেষ কথা হবে না।

অর্থাৎ, আপাতত সারেগামার পক্ষে থাকা অন্তর্বর্তী নির্দেশই বহাল থাকছে। কিন্তু এখানেই কপিরাইটের লড়াই শেষ নয়। সুরকার, প্রযোজনা সংস্থা এবং সংগীত সংস্থার পরস্পরবিরোধী দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে মূল মামলায়।

এই মামলায় আসলে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—একটি গানের সুর, কথা এবং সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের স্বত্ব কি একই হাতে থাকতেই হবে? ইলাইয়ারাজার আবেদন খারিজ হলেও বৃহস্পতিবারের রায়ে তাঁর সমস্ত সংগীতসৃষ্টির উপর অধিকার বাতিল হয়েছে, এমন কোনও সর্বব্যাপী সিদ্ধান্ত দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles