দশ বছর পরে নতুন অ্যালবাম, বদলে যাওয়া জীবনের সুরে ফিরছে দ্য এফ১৬স

যা জানা জরুরি
- একসঙ্গে গান করতে করতে কেটে গিয়েছে প্রায় এক দশক।
- এর মধ্যে বয়স বেড়েছে, বদলেছে ব্যক্তিগত জীবন, এসেছে একক কাজের অভিজ্ঞতাও।
- তবু চারজনের সঙ্গীতের বন্ধনটা রয়ে গিয়েছে অটুট।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
একসঙ্গে গান করতে করতে কেটে গিয়েছে প্রায় এক দশক। এর মধ্যে বয়স বেড়েছে, বদলেছে ব্যক্তিগত জীবন, এসেছে একক কাজের অভিজ্ঞতাও। তবু চারজনের সঙ্গীতের বন্ধনটা রয়ে গিয়েছে অটুট। সেই বদলে যাওয়া সময় আর পুরনো বোঝাপড়াকে একসঙ্গে নিয়েই ফিরছে চেন্নাইয়ের ইন্ডি-রক ব্যান্ড দ্য এফ১৬স। দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘অল ডগস গো টু হেভেন’ প্রকাশিত হবে ২১ অক্টোবর।
দশকটা ফাঁকা নয়
‘দশ বছর পরে ফেরা’ কথাটায় অবশ্য একটু ফাঁক আছে। দ্য এফ১৬সের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘ট্রিগারপুঙ্কটে’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। তার পরে ২০১৯ ও ২০২১ সালে ছোট আকারের গানের সংকলনও এসেছে। অর্থাৎ এত দিন ব্যান্ডটি নিখোঁজ ছিল না। দশ বছরের ব্যবধানটি মূলত দুই পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামের মধ্যে।
নতুন অ্যালবামে থাকছে মোট ১০টি গান। আর এই দীর্ঘ ব্যবধানের মধ্যে বদলেছে ব্যান্ডের সদস্যদের ব্যক্তিগত ও সৃষ্টিশীল জীবনও।
উটিতে চারজন
অ্যালবামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। প্রায় এক মাস উটিতে একসঙ্গে ছিলেন হর্ষণ রাধাকৃষ্ণন, জোশুয়া ফার্নান্ডেজ, শশাঙ্ক মনোহর এবং অভিনব কৃষ্ণস্বামী।
এ বার কাজের ধরনটাও ছিল কিছুটা আলাদা। আলাদা সময়ে আলাদা যন্ত্রের অংশ রেকর্ড করার বদলে চারজন একই ঘরে বসে একসঙ্গে বাজিয়েছেন। ফলে গান তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রত্যেকের প্রতিক্রিয়া এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই হয়ে উঠেছিল গুরুত্বপূর্ণ।
পরে চেন্নাইয়ের নিজের স্টুডিয়োয় অ্যালবামের মিক্সিং করেন হর্ষণ। রেকর্ডিং থেকে প্রচ্ছদ—সৃষ্টির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও এ বার নিজেদের হাতেই রেখেছেন ব্যান্ডের সদস্যরা।
ব্যান্ডের বাইরেও
এই নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সদস্যদের একক কাজের অভিজ্ঞতাও। গায়ক ও গিটারবাদক জোশুয়া ফার্নান্ডেজ ‘জেবেব’ নামে নিজের সঙ্গীত তৈরি করেন। তাঁর একক অ্যালবাম ‘আ লিটল লার্জার দ্যান দ্য এনটায়ার ইউনিভার্স’ তাঁকে ব্যান্ডের বাইরে নিজের শিল্পীসত্তা নিয়ে পরীক্ষার সুযোগ দিয়েছে।
জুলাইয়ে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, একক শিল্পী হিসেবে মঞ্চে নিজের উপস্থাপন নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান। অর্থাৎ চারজনের ব্যান্ডের পরিচয়ের বাইরে তাঁর সামনে খুলেছে আর একটি সৃষ্টিশীল পরিসর।
তবে সেই একক যাত্রা দ্য এফ১৬স থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। বরং জোশুয়ার কথায়, তাঁর একক কাজ এবং ব্যান্ডের নতুন অ্যালবামের ভাবনা, সুর ও উপস্থাপনার মধ্যে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার চেষ্টা ছিল। একটিতে নিজের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা, অন্যটিতে সহশিল্পীদের সঙ্গে ভাবনার আদানপ্রদান—দু’টি পরিসরই তাই পাশাপাশি চলছে।
বয়সের সুর
প্রথম অ্যালবামের সময় যে বয়স, এখন আর সেই বয়স নেই। স্বাভাবিকভাবেই বদলেছে জীবন, বদলেছে অভিজ্ঞতা, বদলেছে নিজেদের দেখার চোখও। তরুণ বয়সের আত্মপ্রকাশের সঙ্গে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার পরে নিজেদের ফিরে দেখার অভিজ্ঞতা এক নয়।
নতুন অ্যালবামের পেছনে সেই পরিবর্তনটাই যেন গুরুত্বপূর্ণ। একক কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত জীবনের নানা পর্ব এবং ফের চারজনের একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা—সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে ‘অল ডগস গো টু হেভেন’।
পুরনো দ্য এফ১৬সকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা নয়, বরং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া চারজন মানুষ এখন একসঙ্গে কী তৈরি করতে পারেন, সেটাই যেন নতুন প্রশ্ন।
জামাকাপড় গেল!
অ্যালবামের প্রচ্ছদে চার সদস্যের নগ্ন হয়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত অবশ্য সেই ‘খোলামেলা’ ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
জোশুয়ার ব্যাখ্যায়, কুকুরের সহজাত প্রবৃত্তি এবং বিচারহীন স্বভাব থেকেই এই ভাবনার সূত্রপাত। তাই প্রচ্ছদটি নিছক চমক দেওয়ার চেষ্টা নয়; বরং নিজেদের উপর চাপানো সংকোচ, সামাজিক আবরণ বা বিচারবোধ সরিয়ে রাখার প্রতীক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
অ্যালবামের নাম ‘অল ডগস গো টু হেভেন’-এর সঙ্গেও সেই ভাবনার যোগ রয়েছে।
সুরে মজা
ইতিমধ্যেই প্রকাশিত ‘মাউন্ট হোয়াটএভারেস্ট’ এবং ‘এলএমএও’ গান দু’টিতে তুলনামূলক ধীরস্থির মেজাজের সঙ্গে মিশেছে ব্যান্ডের চেনা রসবোধ। গান তৈরির সময় কোনও নির্দিষ্ট ঘরানার ছক মেনে চলার চেয়ে নিজেদের অনুভব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
ফলে নতুন অ্যালবামের পরিচয়ও কোনও একটি নির্দিষ্ট সঙ্গীত-ছকের মধ্যে আটকে নেই। চারজনের আলাদা অভিজ্ঞতা এবং একসঙ্গে বাজানোর সহজাত বোঝাপড়াই তাকে নিজের ভাষা দিয়েছে।
ফের চারজন
দ্য এফ১৬সের এই প্রত্যাবর্তনের আসল আকর্ষণ হয়তো এখানেই—সময় একটি ব্যান্ডকে কী ভাবে বদলে দেয়, আর সেই বদল সঙ্গীতের মধ্যে কতটা জায়গা পায়।
চারজনের আলাদা পথ কি তাঁদের যৌথ সৃষ্টিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে? একক স্বাধীনতা আর দলগত সৃষ্টির মধ্যে কতটা ভারসাম্য রাখা যায়? অ্যালবামটি প্রকাশের পরে সেই উত্তর মিলবে গানে।
এই মুহূর্তে অবশ্য দ্য এফ১৬সের কাছে ‘ফিরে আসা’ মানে পুরনো জায়গায় ফিরে যাওয়া নয়। নিজেদের বদলে যাওয়াকে মেনে নিয়ে, এবং একে অন্যের সৃষ্টিশীল বোধের উপর ভরসা রেখেই নতুন অধ্যায় শুরু করছে চেন্নাইয়ের এই চার সদস্যের দল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



