পুজোর প্রিভিউ পাসে অনিয়মের অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

যা জানা জরুরি
- দুর্গাপুজোর আগাম দর্শনের পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িসহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
- মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, সকাল থেকে কলকাতা ও হুগলির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলে।
- কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’, সংক্ষেপে ‘মাসআর্ট’ নামের একটি সংগঠন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দুর্গাপুজোর আগাম দর্শনের পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িসহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, সকাল থেকে কলকাতা ও হুগলির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলে। কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’, সংক্ষেপে ‘মাসআর্ট’ নামের একটি সংগঠন। বেআইনি অর্থ লেনদেন প্রতিরোধ আইনে তদন্ত চলছে।
মোট ১৫টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। ইন্দ্রনীলের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ঠিকানাও অভিযানের আওতায় ছিল। তদন্তকারীরা নথিপত্র পরীক্ষা করে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কী কাজে ব্যবহার হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতিতে অভিযান চলে।
কসবায় ইন্দ্রনীলের বাড়ি, সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি এবং কয়েকজন আত্মীয়ের বাসস্থানে তদন্তকারীরা যান। পঞ্চসায়রে অনুষ্ঠান আয়োজক অরিজিৎ দাশগুপ্তের বাড়িতেও তল্লাশির খবর পাওয়া গিয়েছে। হিন্দুস্থান পার্ক ও হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাও তালিকায় ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর, সকাল ১১টায় ইন্দ্রনীলকে ইডির সল্টলেকের দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে দুর্গাপুজো আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আগে নির্বাচিত মণ্ডপ দেখানোর ব্যবস্থা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ইউনেসকোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকার দাবি করে মাসআর্ট দর্শকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছিল। সেই অর্থের কোনও অংশ ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তাও তদন্তের বিষয়। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেসকোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। তবে সেই স্বীকৃতি কোনও বেসরকারি সংস্থার পাস বিক্রির অনুমোদনের সমতুল্য নয়; অভিযোগ সেই দাবিকে ঘিরেই।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংগঠনের মালিকানা, পরিচালনব্যবস্থা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য যোগাযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তবে উল্লিখিত অঙ্কটি তদন্তাধীন অভিযোগ; প্রমাণিত আত্মসাতের পরিমাণ নয়।
গত জুনে বৌবাজার থানায় ইন্দ্রনীল, তাঁর স্ত্রী এবং মাসআর্টের পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের বিষয় তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ইউনেসকোর কাছে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, মাসআর্টের সঙ্গে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি করা সম্পর্ক নেই। প্রয়োজনীয় নথি ইডিকে দিয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পাসের দাম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জয়দীপ জানান, ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে টিকিট বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে, কলকাতার ২৪টি পুজোর প্রিভিউ পাসের দাম ছিল ১,৭৪৯ থেকে ৫,৪৯৯ টাকার মধ্যে। টিকিটে ইউনেসকোর নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে উঠে এসেছে ইন্দ্রনীলের বাসভবনের নীচে থাকা ‘মায়া আর্ট গ্যালারি’র প্রসঙ্গও। পিটিআই জানিয়েছে, মাসআর্টের ব্যবস্থাপনায় দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের মণ্ডপের পাশাপাশি ওই গ্যালারিতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। সেখানে কেনাকাটা হয়ে থাকলে তার আয় কোথায় গিয়েছে এবং গ্যালারির সঙ্গে সংগঠনের আর্থিক সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইন্দ্রনীল অবশ্য আগেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সমর্থন করার মতো হিসাবপত্র বা অডিট রিপোর্ট পুলিশ পায়নি। তিনি আরও দাবি করেছিলেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইউনেসকোর অনুমতি নিয়ে ভিআইপি কার্ড দেওয়া হয়েছিল, বিক্রি করা হয়নি; কার্ডে ইউনেসকোর প্রতীকও ছিল না। তাঁর এবং স্ত্রীর আগাম জামিনের আবেদন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন।
তল্লাশির দিনে ইন্দ্রনীলের এক আত্মীয় সাংবাদিকদের জানান, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণের উপর। অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



