সোনা যেখানে উত্তরাধিকার, সেখানে বিজয়ের ‘মামার সোনার আংটি’ প্রকল্প

যা জানা জরুরি
- তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে ‘থাইমামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টম’ বা ‘মামার সোনার আংটি’ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়।
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, নবজাতকদের হাতে সোনার আংটি তুলে দিয়ে সরকারের অন্যতম প্রধান এই প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি।
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে মায়েদের কোলে থাকা তিনটি শিশুকেও আংটি দেন বিজয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে ‘থাইমামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টম’ বা ‘মামার সোনার আংটি’ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, নবজাতকদের হাতে সোনার আংটি তুলে দিয়ে সরকারের অন্যতম প্রধান এই প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে মায়েদের কোলে থাকা তিনটি শিশুকেও আংটি দেন বিজয়। প্রাপকদের মধ্যে অর্চনা দেবী জানান, তাঁর কোনও ভাই নেই বলে এই উপহার তাঁকে বিশেষভাবে ছুঁয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের জন্য সোনার আংটি পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি।” তাঁর কথায়, বিজয় তাঁকে “বোনের মতো” দেখেছেন।
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে, বিশেষত তামিলনাড়ু ও কেরলে, সোনা কেবল অলংকার নয়—তার অবস্থান উত্তরাধিকার ও পারিবারিক পুঁজির মধ্যবর্তী এক পরিসরেও। জন্ম থেকে বিয়ে পর্যন্ত নানা আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে সোনা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। দেশের সোনার গয়না ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য বড় অংশের চাহিদা আসে এই অঞ্চল থেকে। সোনার সঙ্গে এই নিবিড় সম্পর্কের পরিচয় মেলে এখানকার অলংকারের নামেও—গলার জন্য ‘তালি’ ও ‘কাসু মালাই’, বাহুর জন্য ‘ভাঙ্কি’, কোমরের জন্য ‘ওড্ডিয়ানম’, আর কানের জন্য ‘জিমিক্কি’।
পরে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে গিয়ে আরও কয়েকটি নবজাতককে আংটি দেন বিজয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে ২৭টি শিশুকে আংটি দেওয়া হয়।
প্রকল্পটির নাম নেওয়া হয়েছে তামিলদের ‘থাইমামান সীর’ প্রথা থেকে। এই প্রথায় মামা তাঁর বোনের সন্তানকে উপহার দেন। তবে প্রকল্পের এই উপস্থাপনা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এর মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে; পাশাপাশি, সরকারি জনকল্যাণকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে তুলে ধরার বদলে ‘উপহার’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে সরকার ১ লক্ষ ২৮ হাজার আংটি সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি আংটিতে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের বা বিআইএসের হলমার্ক থাকবে। প্রতিটির আলাদা ক্রমিক নম্বর থাকবে এবং সেগুলি এমন সুরক্ষিত মোড়কে সরবরাহ করা হবে, যাতে খোলা বা কারসাজি করা হলে তা বোঝা যায়। মোট আংটির ৭০ শতাংশ সরবরাহের বরাত পেয়েছে জোয়ালুক্কাস; বাকি ৩০ শতাংশের বরাত পেয়েছে কল্যাণ জুয়েলার্স।
এই সুবিধা পেতে আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। আংটি দেওয়ার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসবের নথি, পিআইসিএমই নিবন্ধন, আরসিএইচ পরিচয় নম্বর এবং মা তামিলনাড়ুর বাসিন্দা কি না, তা যাচাই করবেন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন, আংটির মজুত ও বিতরণ তদারক করবে জেলাশাসকদের নেতৃত্বাধীন জেলা পর্যায়ের কমিটি।
আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকায় মাদুরান্থাকাম ও ধারাপুরম বিধানসভা কেন্দ্রে আপাতত প্রকল্পটি চালু করা হয়নি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



