ভাতা বৃদ্ধির সঙ্গে স্থায়ী ভবন, অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবায় জোর মুখ্যমন্ত্রীর

যা জানা জরুরি
- অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভাড়াবাড়িতে চলা প্রায় ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে পর্যায়ক্রমে সরকারের নিজস্ব স্থায়ী…
- রাজ্যের সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্রকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভাড়াবাড়িতে চলা প্রায় ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে পর্যায়ক্রমে সরকারের নিজস্ব স্থায়ী ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। রাজ্যের সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্রকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অগস্ট থেকেই কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, পানিহাটির অনুষ্ঠানে তিনি আগে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জানান, কর্মীদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদবিহীন চিকিৎসার সুবিধা পাবেন তাঁরা। কর্মীদের আয় ও চিকিৎসার সুরক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিশু এবং মায়েদের পুষ্টির জন্য খাদ্যবরাদ্দ বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের খাবারের বরাদ্দ মাথাপিছু দুই টাকা বাড়িয়ে আট টাকা করা হয়েছে। গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ১২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪ টাকা। শিশুবিকাশ ও মাতৃপুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়েই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির পাশাপাশি উপভোক্তাদের খাবারের বরাদ্দও এভাবে ঘোষণার কেন্দ্রে এসেছে।
পরিকাঠামো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কেন্দ্রগুলির নিজস্ব ঠিকানা। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার কেন্দ্র ভাড়া করা জায়গায় চলছে। সেগুলিকে সরকারি মালিকানাধীন স্থায়ী ভবনে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে কোন জেলায় কতগুলি কেন্দ্র আগে স্থানান্তরিত হবে, কিংবা গোটা কাজ কবে শেষ হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশিত সংবাদবিবরণে নেই। ফলে অর্থবরাদ্দের ঘোষণা এবং প্রতিটি কেন্দ্রের বাস্তব স্থানান্তরের মধ্যে প্রশাসনিক কাজের একটি বড় পর্ব বাকি থাকছে।
সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণাও এই পরিকাঠামো পরিকল্পনার অংশ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে কেন্দ্রগুলির সুযোগসুবিধার সামগ্রিক উন্নয়ন করতে চায় সরকার। পরবর্তী রাজ্য বাজেটে আইসিডিএস কর্মী এবং কেন্দ্রগুলির জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি। ফলে সোমবারের বক্তব্যে ইতিমধ্যে কার্যকর হওয়া ভাতাবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা থাকা পরিকাঠামো পরিকল্পনা, দু’টি পৃথক পর্যায়ের উদ্যোগ উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে নবীন বলেন, শিশুদের জীবনের প্রথম শিক্ষকদের মধ্যে তাঁরা অন্যতম। শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা, পরিচর্যা এবং বেড়ে ওঠার সঙ্গে তাঁদের কাজ সরাসরি যুক্ত। সেই অর্থে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও তাঁরা পালন করছেন। শুভেন্দুর নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়ন হবে বলেও দাবি করেন বিজেপি সভাপতি।
সমন্বিত শিশুবিকাশ পরিষেবার আওতাধীন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি মা ও শিশুর পুষ্টি, পরিচর্যা এবং বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই পরিষেবা পরিচালনায় কর্মী ও সহায়িকারা একসঙ্গে কাজ করেন। ফলে কর্মীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং কেন্দ্রগুলির উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘোষিত সুবিধাগুলি কার্যকর হলে কর্মীদের কাজের পরিবেশ এবং শিশুদের পরিষেবা গ্রহণের পরিবেশ—উভয়েরই উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।
এখন নজর থাকবে ঘোষণাগুলির বাস্তবায়নে। ভাড়ার কেন্দ্রগুলির জন্য ভবন চিহ্নিত করা, প্রয়োজনমতো নির্মাণ শেষ করা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার ব্যবস্থা করার অগ্রগতি থেকেই বোঝা যাবে পরিকল্পনা কতটা এগোল। নিয়মিত পরিষেবা বজায় রেখেই স্থানান্তর করা প্রয়োজন, যাতে নতুন ভবনে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় শিশু ও মায়েদের খাবার বা পরিচর্যার সুযোগ কোনও সময় ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি বর্ধিত খাদ্যবরাদ্দ নিয়মিত পৌঁছনোও জরুরি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির মূল্যায়নে তাই পরবর্তী বাজেটের অঙ্কের সঙ্গে কেন্দ্রগুলিতে বাস্তব পরিবর্তনের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



