International

তেলের চুক্তিতে এত ফাঁক?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন অন্য দেশের তেলক্ষেত্রের দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর বহু দিনের।
  • ১৯৮৭ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ই ইরানের তেল দখলের কথা বলেছিলেন তিনি।
  • পরে লিবিয়া থেকে ইরাক—সামরিক সংঘাতের পর আমেরিকার উচিত সংশ্লিষ্ট দেশের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, এমন ধারণায় বারবার ফিরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন

অন্য দেশের তেলক্ষেত্রের দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর বহু দিনের। ১৯৮৭ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ই ইরানের তেল দখলের কথা বলেছিলেন তিনি। পরে লিবিয়া থেকে ইরাক—সামরিক সংঘাতের পর আমেরিকার উচিত সংশ্লিষ্ট দেশের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, এমন ধারণায় বারবার ফিরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এ বছরের গোড়ায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর সেই পুরনো ধারণাই যেন বাস্তব রূপ পায়। মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। ট্রাম্প এই সমঝোতাকে বলেছেন ‘বিশ্বের ইতিহাসে বৃহত্তম তেলচুক্তি’।

কিন্তু ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। ভেনেজুয়েলার আইন, মার্কিন সরকারের ক্ষমতা, চুক্তির কাঠামো এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ—সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে আইনি ও বাস্তবায়নের জটিলতা। বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন আধিকারিকদের একাংশের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যে ভাবে চুক্তিটিকে তুলে ধরছে, বাস্তবে তার সঙ্গে সেই ছবির যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।

শুরুটা অনেক আগে

১৯৮৭ সালে এবিসি-র বারবারা ওয়াল্টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশ্ন করেছিলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আমেরিকা কেন ইরানের সমুদ্রতীরবর্তী কিছু তেলক্ষেত্র দখল করে নিচ্ছে না।

এর পরের কয়েক দশকেও একই ভাবনা ফিরে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। লিবিয়া, ইরাক-সহ বিভিন্ন সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গে অন্য দেশের তেলের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলায় সেই নীতির প্রয়োগের সুযোগ আসে এ বছরের জানুয়ারিতে। মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করে আমেরিকার একটি কেন্দ্রীয় আটককেন্দ্রে নিয়ে যায়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেন দেলসি রদ্রিগেস।

অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই ‘দ্য আটলান্টিক’-কে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, রদ্রিগেস “ঠিক কাজ” না করলে তাঁকে “খুব বড় মূল্য” দিতে হতে পারে—সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।

এর পর অগস্টে ঘোষণা করা হয়, পেন্টাগনের ‘অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল’ বা ওএসসি ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি তেল সংস্থা ‘নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স’—সংক্ষেপে ন্যাবেপ—এর এক-তৃতীয়াংশের মালিক হবে।

ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত ফের পূরণ করা সম্ভব হবে। ইরানে মার্কিন হামলার পরে ওই মজুত বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল।

কিন্তু এখানেই প্রথম প্রশ্ন।

আইন কি অনুমতি দিচ্ছে?

গার্ডিয়ানের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণকারী আইনে ১০০ বছরের চুক্তির সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ ২৫ বছরের চুক্তিই করা যায়।

ভেনেজুয়েলার আইন বিশেষজ্ঞ হোসে ইগনাসিও এর্নান্দেসের বক্তব্য, বিষয়টি আইনে স্পষ্ট। তাঁর কথায়, প্রশাসন যে ভাবে চুক্তিটির কথা ঘোষণা করেছে, সে ভাবে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়।

শুধু ভেনেজুয়েলার আইন নয়, মার্কিন সরকারের নিজের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পেন্টাগন ন্যাবেপের ৩৫ শতাংশের মালিক। কিন্তু গার্ডিয়ানের দেখা পেন্টাগনের একটি লিখিত বিবরণে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, তাদের হাতে রয়েছে ন্যাবেপের ‘ওয়ারেন্ট’—অর্থাৎ ভবিষ্যতে শেয়ার কেনার অধিকার; সরাসরি শেয়ারের মালিকানা নয়।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে আইনে ওএসসি তৈরি হয়েছিল, তাতে বেসরকারি সংস্থার শেয়ারে সরাসরি বিনিয়োগের অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়েই আইন বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের উপাধ্যক্ষা অ্যাশলি ডিকসের বক্তব্য, কংগ্রেস ওএসসি-কে বেসরকারি সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষমতা দিয়েছে—এমনটা মনে করার কারণ নেই। বিভিন্ন সংস্থায় মার্কিন সরকারের মালিকানা নিয়ে ‘হার্ভার্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি জার্নাল’-এ লিখেছেন তিনি।

পেন্টাগনের এক প্রাক্তন আধিকারিকের মতে, এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই ন্যাবেপের মালিকানা পেন্টাগনের অন্য একটি দফতর—‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেস অ্যানালিসিস অ্যান্ড সাসটেইনমেন্ট’ বা আইব্যাসের হাতে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কিন্তু আইব্যাসের মূল কাজ তেল ব্যবসা নয়। তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংস্থাটির লক্ষ্য মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত শক্ত করা।

পেন্টাগন কি বিনিয়োগকারী?

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে পেন্টাগনের ভূমিকাও বদলেছে। ওএসসি রয়েছে উপ-প্রতিরক্ষাসচিব স্টিফেন ফাইনবার্গের অধীনে। বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থা সারবেরাসের প্রাক্তন কর্মীদের পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসার বিষয়টি আগেও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফাইনবার্গের অধীনে ওএসসি-র নেতৃত্বে রয়েছেন সারবেরাসেরই প্রাক্তন কর্মী ডেভিড লর্চ।

প্রশাসন ১৯৫০-এর দশকের ‘প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন’ ব্যবহার করে পেন্টাগনের আর্থিক ভূমিকাকে সম্প্রসারিত করছে। এক প্রাক্তন আধিকারিকের ভাষায়, এর ফলে পেন্টাগন বড় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মালিকানা নেওয়ার একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

চুক্তির আর্থিক কাঠামো ফাইনবার্গ ও লর্চ তৈরি করেছেন বলে দাবি করেছেন পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত পেন্টাগনের এক প্রাক্তন আধিকারিক। তাঁর কথায়, “এটি পুরোপুরি ফাইনবার্গের প্রকল্প।”

অথচ অগস্টেই পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছিলেন, ওএসসি বেসরকারি সংস্থায় শেয়ারভিত্তিক মালিকানা নেয় না।

এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়িয়েছে।

তেলের ভাগ কী ভাবে?

প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যাবেপ যে তেল উৎপাদন করবে, তার ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার অধিকার পাবে মার্কিন বিদেশ দফতর। অর্থাৎ বাজারদরের তুলনায় কম দামে ওই তেল কেনার সুযোগ থাকবে।

পেন্টাগনের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, করদাতাদের কোনও খরচ ছাড়াই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ৬,৫০০ কোটির বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেলভান্ডারের উপর সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যাবে।

কিন্তু আমেরিকা সেই অশোধিত তেল কী ভাবে কিনবে, কী ভাবে তা পরিবহণ ও পরিশোধন করা হবে—তার বিস্তারিত কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্য দিকে, বিদেশ দফতর বলছে, এটি একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বেসরকারি চুক্তি। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং কোনও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াও এতে যুক্ত হয়নি।

এই বক্তব্যের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম ঘোষণার পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। তখন তিনি বলেছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এইমাত্র ভেনেজুয়েলা দেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে।”

চুক্তির কেন্দ্রে বেতানকুর

চুক্তির আর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আলেহান্দ্রো বেতানকুর লোপেস। ৪৬ বছরের এই ভেনেজুয়েলীয় ব্যবসায়ী ন্যাবেপের মালিক। ম্যাসাচুসেটসে কলেজে পড়েছেন। স্পেন, ব্রিটেন ও নিউ ইয়র্কে তাঁর বাড়ি রয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ ও তেলশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। একটি রোদচশমা প্রস্তুতকারী সংস্থারও মালিক তিনি।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় তাঁর আইনজীবী ছিলেন রুডি জুলিয়ানি।

বেতানকুরের নাম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তেও উঠেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল, তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকায় কোনও ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং কোনও অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্তও হননি।

২০১৩ সালে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত অটো রাইখ নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, ডারউইক অ্যাসোসিয়েটসের অংশীদারদের সঙ্গে বেতানকুর ঘুষের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বরাত পেয়েছিলেন। তবে আদালত রাইখের ‘রিকো’ আইনের অভিযোগ খারিজ করে দেয়। মানহানির দাবিও এখতিয়ারগত কারণে খারিজ হয়।

বেতানকুরের আইনজীবী ভেল ফ্রিডম্যান জানিয়েছেন, বেতানকুর বা ডারউইক কেউই কাউকে ঘুষ দেওয়ার নির্দেশ বা উৎসাহ দেননি।

২০১৮ সালে তাঁর এক তুতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে মায়ামির আদালতে ১২০ কোটি ডলার অর্থ পাচারের মামলা হয়। তদন্তের নথিতে নাম প্রকাশ না-করা এক ‘দ্বিতীয় ষড়যন্ত্রকারী’র কথা ছিল। ‘মায়ামি হেরাল্ড’ পরে দাবি করে, ওই ব্যক্তি বেতানকুর।

তাঁর আইনজীবী অবশ্য তা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকায় বেতানকুরের বিরুদ্ধে কখনও কোনও ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি এবং মার্কিন সরকার কখনও তাঁর প্রত্যর্পণও চায়নি।

মার্কো রুবিয়োও ভেনেজুয়েলার একটি বেতার সাক্ষাৎকারে বলেন, বেতানকুরের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত চলছে না।

হ্যাকিংয়ের অভিযোগও

বেতানকুরের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সরকারের সম্পর্কও সরল ছিল না। পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত দু’জনের বক্তব্য, তাঁর আর্থিক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ আইনজীবী, তদন্তকারী এবং হ্যাকার নিয়োগ করেছিল।

২০২১ সালের একটি নথি গার্ডিয়ানের হাতে এসেছে, যেখানে ভেনেজুয়েলায় হ্যাকিংয়ের নিশানা হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা রয়েছে। সেখানে বেতানকুরের নামকে ‘গৌণ’ নিশানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেতানকুরের আইনজীবী হ্যাকিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট বিরোধীদের অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সমর্থক ছিলেন বেতানকুর। তাই তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনও পদক্ষেপ হয়ে থাকলে সেটিকে সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।

২০২৪ সালের মধ্যে ন্যাবেপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় ফের তেল উত্তোলনের কাজে যুক্ত হন বেতানকুর। সে সময় মার্কিন তেল ব্যবসায়ী হ্যারি সার্জেন্টও সংস্থাটির অংশীদার ছিলেন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যাবেপের প্রাথমিক উৎপাদন ছিল দিনে প্রায় ২৩ হাজার ব্যারেল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থ পাচারের তদন্তের সূত্রে স্পেনে তাঁর দুর্গপ্রাসাদে পুলিশ তল্লাশি চালায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। তবে সেই তদন্তের ফলে বেতানকুরের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ গঠন হয়েছে কি না, তা গার্ডিয়ান নিশ্চিত করতে পারেনি।

মধ্যস্থতাকারী থেকে অংশীদার

মাদুরোকে গ্রেফতারের সময় বেতানকুরের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্রের দাবি, দেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বেতানকুরের আইনজীবী জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে যোগাযোগের কোনও প্রতিষ্ঠিত পথ না থাকায় দু’পক্ষই বেতানকুরের সঙ্গে কথা বলেছিল। তাঁর দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন তিনি।

এখানেই তৈরি হচ্ছে আর একটি প্রশ্ন—যে ব্যক্তিকে ঘিরে এত বিতর্ক, মার্কিন সরকার কেন তাঁর সংস্থার সঙ্গে এত বড় তেলচুক্তিতে যাচ্ছে?

দীর্ঘদিন ভেনেজুয়েলা নিয়ে কাজ করা এক ব্যবসায়ীর কথায়, “এই গোটা ব্যাপারে একমাত্র যার লাভ হচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে, সে হল বেতানকুর।”

তবে এই মন্তব্য একটি ব্যবসায়ীর মূল্যায়ন, প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়। বেতানকুরের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর কোনও অপরাধমূলক দোষ সাব্যস্ত হয়নি।

‘যুদ্ধজয়ের লুণ্ঠিত সম্পদ’

সব প্রশ্নের মধ্যেও ট্রাম্পের নিজের ব্যাখ্যা বেশ সরল। রাষ্ট্রপুঞ্জে এই সপ্তাহে তিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “এটা একটা যুদ্ধ ছিল। তবে হয়তো এটাই এ যাবৎ হওয়া সবচেয়ে বড় চুক্তি।”

এর পরেই তাঁর মন্তব্য, “যুদ্ধজয়ের লুণ্ঠিত সম্পদ বিজয়ীরই প্রাপ্য।”

কিন্তু একটি বড় তেলচুক্তি শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে কার্যকর হয় না। ভেনেজুয়েলার আইন কী অনুমতি দেয়, মার্কিন প্রশাসনের হাতে ঠিক কী ক্ষমতা রয়েছে, ন্যাবেপের মালিকানা কী ভাবে বদলাবে, বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে এবং উৎপাদিত তেল কী ভাবে আমেরিকার বাজারে পৌঁছবে—প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরই এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

তাই ট্রাম্প যাকে ইতিহাসের বৃহত্তম তেলচুক্তি বলছেন, তার বাস্তব কাঠামো এখনও আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নের জালে আটকে রয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles