উৎসব চলুক, শব্দের ছাড় নয়: মহারাষ্ট্রে জামানত ও রাস্তায় বাজি-নিষেধের পথে হাইকোর্ট

যা জানা জরুরি
- ধর্মীয় শোভাযাত্রায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আয়োজকদের কাছ থেকে জামানত নেওয়া এবং জনসাধারণের রাস্তায় বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ করার দিকে এগোচ্ছে বম্বে হাইকোর্ট।
- ২২ সেপ্টেম্বর শুনানিতে বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলের বেঞ্চ জানিয়েছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হবে।
- গুরুত্বপূর্ণ সীমাটি হল, শুনানিতে ঘোষিত অভিপ্রায়কে ইতিমধ্যে কার্যকর হয়ে যাওয়া সর্বাঙ্গীণ নিষেধাজ্ঞা বলা যাচ্ছে না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ধর্মীয় শোভাযাত্রায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আয়োজকদের কাছ থেকে জামানত নেওয়া এবং জনসাধারণের রাস্তায় বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ করার দিকে এগোচ্ছে বম্বে হাইকোর্ট। ২২ সেপ্টেম্বর শুনানিতে বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলের বেঞ্চ জানিয়েছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ সীমাটি হল, শুনানিতে ঘোষিত অভিপ্রায়কে ইতিমধ্যে কার্যকর হয়ে যাওয়া সর্বাঙ্গীণ নিষেধাজ্ঞা বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত লিখিত নির্দেশের ভাষা ও পরিধিই নির্ধারণ করবে বাস্তবে কী বদলাবে।
গণেশ উৎসবের সময়ে উচ্চমাত্রার শব্দ নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে। পরদিনের শুনানিতে শুধু মাইক বন্ধ করার কথা নয়, অনুমতি দেওয়া থেকে নিয়মভঙ্গের প্রমাণ সংগ্রহ পর্যন্ত গোটা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আলোচনায় আসে। আয়োজক মণ্ডলগুলিকে শোভাযাত্রার অনুমতিপত্র প্রকাশ্যে দেখাতে বলা, পুলিশকে শব্দের মাত্রা মাপতে বাধ্য করা এবং সীমা ছাড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা—সম্ভাব্য নির্দেশের মধ্যে এই বিষয়গুলি রয়েছে।
বেঞ্চ ঢোলের দলের ব্যবহৃত সিলিন্ডারজাতীয় শব্দ উৎপাদক উপকরণ বন্ধ করার কথাও বলেছে। জামানতের প্রস্তাবে যুক্তি হল, নিয়ম ভাঙলে অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি আয়োজকদের দায়িত্ব বাড়াতে পারে। তবে কত টাকা জমা দিতে হবে, সব আয়োজনের জন্য একই অঙ্ক হবে কি না, কিংবা বাজেয়াপ্তির আগে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে—প্রকাশিত শুনানি-বিবরণে সেই পূর্ণ কাঠামো নেই। এখনই নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ক ঘোষণা করা তাই ভুল হবে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনেও জনপথে দূষণকারী বাজি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজ্যজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির প্রয়োজনের কথা উঠে এসেছে। কোনও কোনও এলাকায় পুলিশের শর্ত কঠোর হলেও অন্যত্র বাস্তব প্রয়োগ আলাদা হলে নাগরিক ও আয়োজক—দুপক্ষই অনিশ্চয়তায় পড়ে। অনুমতির কাগজ, শব্দ মাপার যন্ত্র এবং নিয়মভঙ্গের লিখিত নথি একই ব্যবস্থার অংশ করার আলোচনাটি সেই অসামঞ্জস্যের সঙ্গে যুক্ত।
এখানে প্রেক্ষাপটের আইনটি নতুন নয়। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রকাশিত শব্দদূষণ বিধি অনুযায়ী, লাউডস্পিকার বা জনসমক্ষে শব্দবর্ধক ব্যবস্থা ব্যবহারে লিখিত অনুমতি প্রয়োজন। সাধারণ নিয়মে রাত দশটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত ব্যবহার সীমিত; ঘেরা প্রাঙ্গণে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মতো নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম আছে। সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় উৎসবে রাজ্য শর্তসাপেক্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত ছাড় দিতে পারে, কিন্তু সেই ছাড় বছরে মোট পনেরো দিনের বেশি নয়।
একই বিধিতে এলাকা শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক বা নীরব অঞ্চল হিসেবে ভাগ করার দায়িত্ব রাজ্যের। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আদালতের চারপাশের এলাকা নীরব অঞ্চল ঘোষণা করার বিধানও রয়েছে। অর্থাৎ উৎসবের অনুমতি পাওয়া আর সব ধরনের শব্দ করার অবাধ অধিকার পাওয়া সমার্থক নয়। নিয়ম প্রয়োগের দায়িত্ব নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের; অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার কথাও বিধিতে লেখা আছে।
বিশ্লেষণ
এই শুনানির সবচেয়ে ব্যবহারিক দিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করা নয়, দায়িত্বকে শনাক্তযোগ্য করা। অনুমতির শর্ত প্রকাশ্যে থাকলে আয়োজক, পুলিশ ও প্রতিবেশী একই নিয়ম দেখতে পারেন। শব্দ মাপার নথি থাকলে অভিযোগ কেবল কারও বিরক্তি বনাম কারও অস্বীকারে আটকে থাকে না। তবে যন্ত্রের পাঠ কোথায়, কখন এবং কতক্ষণ নেওয়া হয়েছে, সেই তথ্যও প্রয়োজন।
জামানত ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে, আবার ভুল নকশায় সমস্যা বাড়াতেও পারে। বড় আয়োজনের কাছে সামান্য অঙ্ক নিয়ম ভাঙার মূল্য হয়ে দাঁড়াতে পারে; ছোট আয়োজনের কাছে একই অঙ্ক অতিরিক্ত বাধা হতে পারে। তাই নিয়মভঙ্গের মাত্রা, প্রমাণ, জবাব দেওয়ার সুযোগ এবং অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া পরিষ্কার থাকা জরুরি। আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে এই প্রশ্নগুলির উত্তর কতটা আসে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উৎসবের পরে কয়েকটি মামলা করাই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। আয়োজন চলাকালীন শব্দ কমানো গেছে কি না, অভিযোগের উত্তর সময়মতো এসেছে কি না এবং ঘোষিত সময়সীমা মানা হয়েছে কি না—সেগুলিও দেখতে হবে। আদালতের হস্তক্ষেপ নতুন চাপ তৈরি করেছে; নাগরিকের বাস্তব স্বস্তি নির্ভর করবে সেই চাপ প্রশাসনিক কাজে কতটা রূপ নেয় তার উপর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



