প্রশ্নের দাম ৩৫ থেকে ৮০ লক্ষ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: কর্নাটকে ৪০০ পশুচিকিৎসক নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার আধিকারিক জ্ঞানেন্দ্রকুমার গঙ্গওয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে…
- কর্নাটক লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষানিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করার সময়ে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
- একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী বাসবরাজ কান্নালেকেও হেফাজতে নিয়েছে সংস্থাটি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: কর্নাটকে ৪০০ পশুচিকিৎসক নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার আধিকারিক জ্ঞানেন্দ্রকুমার গঙ্গওয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কর্নাটক লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষানিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করার সময়ে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী বাসবরাজ কান্নালেকেও হেফাজতে নিয়েছে সংস্থাটি। দু’জনেই আগে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মামলায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন; অর্থপাচারের পৃথক তদন্তে ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়।
সহকারী পশুচিকিৎসা আধিকারিকের লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল ৮ ও ৯ জানুয়ারি। অপরাধ তদন্ত বিভাগের অভিযোগ, পরীক্ষার আগের রাতে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীকে একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে ডেকে সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর পড়ানো হয়। কারও হাতে লেখা, কারও ছাপা কাগজ দেওয়া হয়েছিল; যোগাযোগে সাংকেতিক বার্তা ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। ৪০০ শূন্যপদের জন্য প্রকাশিত ফলাফলে ৩২৯ জন নির্বাচিত হন। তদন্তকারীরা তাঁদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের কাছ থেকে ৩৫ লক্ষ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার দাবি করেছেন।
কান্নালে পরীক্ষার্থী ও কমিশনের ভিতরের ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসূত্র ছিলেন বলে অভিযোগ। আগস্টের শেষে আলমাটি হয়ে উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। গঙ্গওয়ারকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ ২৯ আগস্ট গ্রেপ্তার করেছিল। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এখন দেখছে, কথিত ঘুষের টাকা কার কাছে গেছে, কীভাবে নগদ থেকে সম্পদে বদলেছে এবং কারা সুবিধাভোগী। ২১টি জায়গায় তল্লাশির পরে পাওয়া নথি ও ডিজিটাল যন্ত্র বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
একটি উল্লেখযোগ্য সূত্র হল ৫২ লক্ষ টাকার গয়না। তদন্তকারীদের দাবি, এক পরীক্ষার্থীর পরিবারের দেওয়া অর্থের সঙ্গে ওই কেনাকাটার যোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু গয়না উদ্ধার বা অর্থের গতিপথ শনাক্ত হওয়া একাই পুরো ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে না; টাকা দেওয়ার উদ্দেশ্য, গ্রহণকারীর জ্ঞান এবং পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সম্পর্ক আদালতে সাক্ষ্য ও নথিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইভাবে টাকা দিয়েছেন বলে যাঁদের নাম উঠেছে, প্রত্যেকে স্বেচ্ছায় ঘুষদাতা, প্রতারণার শিকার না অন্য কোনও ভূমিকায়—তা পৃথক তদন্তের বিষয়।
নিয়োগ-প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। ৩২৯ জন নির্বাচিতের মধ্যে মাত্র ১১ জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অর্থপ্রদানের অভিযোগ থাকলে সবার ফল একসঙ্গে বাতিল করা নির্দোষ প্রার্থীদের ক্ষতি করতে পারে। আবার প্রশ্নপত্র ব্যাপকভাবে ফাঁস হলে কেবল অভিযুক্ত কয়েকজনকে বাদ দিয়েও পরীক্ষার সমতা ফেরানো যায় না। সরকারকে পরীক্ষার কোন অংশ আপসগ্রস্ত, কারা আগাম প্রশ্ন পেয়েছিলেন এবং মেধাতালিকায় তার প্রভাব কতটা—স্বাধীন কারিগরি বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে।
রাজ্য পুলিশের মূল অপরাধ-মামলা এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অর্থপাচার-মামলাও একই নয়। প্রথমটি প্রশ্ন ফাঁস, ঘুষ ও প্রতারণার কথিত মূল অপরাধ খতিয়ে দেখছে; দ্বিতীয়টি সেই অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন বা রূপান্তর করা হয়েছে কি না দেখে। এক তদন্তের গ্রেপ্তার অন্য মামলায় স্বয়ংক্রিয় দোষপ্রমাণ নয়। দুটি সংস্থার উদ্ধার, সাক্ষ্য ও অর্থের হিসাব আদালতে পরস্পরের সঙ্গে মিলতে হবে।
বিশ্লেষণ: পশুচিকিৎসকের পদ শুধু সরকারি চাকরি নয়; গ্রামীণ রোগনিয়ন্ত্রণ, টিকাকরণ, দুধ ও মাংসের নিরাপত্তা এবং কৃষকের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। অযোগ্য নিয়োগের মূল্য তাই একটি পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতার বাইরে যায়। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার নামে পুরো ব্যবস্থা অস্বচ্ছ রাখলে ভিতরের যোগসাজশ শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়। প্রশ্ন তৈরির হেফাজত-শৃঙ্খল, ছাপার নজরদারি, প্রবেশ-নথি এবং পরীক্ষার পর পরিসংখ্যানগত অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা করা দরকার।
এই মামলায় গ্রেপ্তারকে দোষসিদ্ধি হিসেবে দেখানো যাবে না, আবার ‘তদন্ত চলছে’ বলে প্রার্থীদের অনির্দিষ্ট অপেক্ষায় রাখাও ন্যায্য নয়। সময়বদ্ধ অভিযোগপত্র, অভিযুক্ত ও নির্দোষ নির্বাচিতদের পৃথকীকরণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পুনঃপরীক্ষা—তিনটিই প্রয়োজন। ঘুষের অঙ্ক যত বড়, জনসাধারণের সামনে প্রমাণের মানও তত কঠোর হওয়া উচিত। নিয়োগ কমিশনের মর্যাদা তার নামের স্বাধীনতায় নয়; এমন কেলেঙ্কারির পরে বিশ্বাসযোগ্য ফল ফিরিয়ে আনার ক্ষমতায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



