গ্যালারি দেখেনি চার শিশুর তিনজন: ইংল্যান্ডের সংস্কৃতিনীতি নতুন করে সাজাতে চান ডন এয়ারি

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ডের নতুন চেয়ার ডন এয়ারি শিশুদের শিল্প ও সংস্কৃতিতে প্রবেশাধিকারকে প্রায় মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে দেখার কথা বলেছেন।
- ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংস্থাকে যুক্ত করে শিশুদের নাটক, সংগীত, জাদুঘর ও শিল্পকলা দেখার সুযোগ বাড়ানো তাঁর…
- আর্টস কাউন্সিলের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক শিশু গত এক বছরে কোনও জাদুঘর বা নাট্যশালায় যায়নি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ডের নতুন চেয়ার ডন এয়ারি শিশুদের শিল্প ও সংস্কৃতিতে প্রবেশাধিকারকে প্রায় মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে দেখার কথা বলেছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংস্থাকে যুক্ত করে শিশুদের নাটক, সংগীত, জাদুঘর ও শিল্পকলা দেখার সুযোগ বাড়ানো তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।
আর্টস কাউন্সিলের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক শিশু গত এক বছরে কোনও জাদুঘর বা নাট্যশালায় যায়নি। চারজনের মধ্যে তিনজন কোনও শিল্পপ্রদর্শনীকেন্দ্র দেখেনি। একই জরিপে ৫৫ শতাংশ শিশু আরও সাশ্রয়ী সাংস্কৃতিক সুযোগ চেয়েছে। জরিপটি অংশগ্রহণের সংকেত দেয়; প্রতিটি শিশুর অভিজ্ঞতা বা আগ্রহ একই—এ কথা বলে না।
এয়ারি সম্প্রচার ও বিনোদনশিল্পে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর সামনে এমন সময়ে দায়িত্ব এসেছে, যখন স্থানীয় সরকারের বাজেট কমা, বিদ্যালয়ে শিল্পবিষয়ের সময় হ্রাস এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে পরিবারের সাংস্কৃতিক ব্যয় সংকুচিত। বিনামূল্যের জাদুঘর থাকলেও যাতায়াত, খাবার, সময় এবং শিশু দেখাশোনার খরচ প্রবেশের বাস্তব বাধা হতে পারে।
আর্টস কাউন্সিল বছরে ৬৫ কোটি পাউন্ডের বেশি সরকারি ও লটারি অর্থ বিতরণ করে। সেই অর্থ জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ছোট স্থানীয় নাট্যদল, পাঠাগার-সংলগ্ন প্রকল্প এবং শিল্পশিক্ষা—বিভিন্ন স্তরে যায়। অর্থের পরিমাণ বড় হলেও দেশজুড়ে চাহিদা আরও বড়; কোন অঞ্চল ও শিল্পরূপ অগ্রাধিকার পাবে, তা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্ত।
প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক সময়ে অনুদান আবেদনের জটিলতা এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমালোচনার মুখে পড়েছে। এয়ারি নির্দেশিকা সহজ করার কথা বলেছেন। ছোট সংগঠনের আলাদা অনুদান-লেখক বা প্রশাসনিক দল থাকে না; একটি দুর্বোধ্য ফর্ম তাদের প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই পিছিয়ে দেয়।
শিশুদের কাছে পৌঁছতে শুধু প্রতিষ্ঠানে নিমন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। বহু গ্রামীণ বা দরিদ্র এলাকায় কাছাকাছি নাট্যশালা নেই, বিদ্যালয়ের সফরের বাসভাড়া নেই এবং শিক্ষকসংখ্যাও সীমিত। শিল্পীকে বিদ্যালয় ও পাড়ায় নিয়ে যাওয়া, স্থানীয় পাঠাগার ব্যবহার এবং যাতায়াতের অর্থ দেওয়া তাই ভবনের টিকিট কমানোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
কোন সংস্কৃতি শিশুদের সামনে আনা হবে, প্রশ্নটিও জরুরি। শুধু প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় চিত্রকলা বা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দেখালে বহুভাষিক ও নানা জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা নিজেদের অনুপস্থিত মনে করতে পারে। স্থানীয় সংগীত, নৃত্য, কমিকস, চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল সৃষ্টিকেও সাংস্কৃতিক শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রয়োজন।
বিশ্লেষণ: অংশগ্রহণের কম হারকে শিশুদের অনাগ্রহ বলে ব্যাখ্যা করা সহজ, কিন্তু ৫৫ শতাংশের সাশ্রয়ী সুযোগের দাবি অন্য ছবি দেখায়। সমস্যা আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি অর্থ, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাপ্তবয়স্কদের সিদ্ধান্তে। শিশু নিজে দূরের জাদুঘরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে না।
নতুন নেতৃত্বের সাফল্য বড় ঘোষণা দিয়ে নয়, পুনরাবৃত্ত অংশগ্রহণে মাপা উচিত। একবার নাটক দেখানোর পরে শিশুটি কি আবার যেতে পারে, নিজে কিছু তৈরি করার জায়গা পায় এবং শিল্পকে সম্ভাব্য পেশা ভাবতে পারে? সংস্কৃতিকে অধিকার বলা শক্তিশালী বাক্য; বাজেট ও পরিবহণে সেই অধিকার কার্যকর করাই কঠিন কাজ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



