লিজি বর্ডেনের কুঠার নয় শুধু, নেটফ্লিক্সের ‘মনস্টার’-এ নারীর রাগের বাজার

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: নেটফ্লিক্সের সত্য-অপরাধভিত্তিক ধারাবাহিক ‘মনস্টার’-এর চতুর্থ পর্ব ‘দ্য লিজি বর্ডেন স্টোরি’ ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেখা যাচ্ছে।
- জেফ্রি ডাহমার, মেনেন্দেজ ভাই এবং এড গিনকে নিয়ে তিনটি পুরুষকেন্দ্রিক মরসুমের পরে প্রথমবার কোনও নারীকে ধারাবাহিকটির কেন্দ্রে আনা হয়েছে।
- এল্লা বিটি অভিনয় করেছেন লিজি বর্ডেনের ভূমিকায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: নেটফ্লিক্সের সত্য-অপরাধভিত্তিক ধারাবাহিক ‘মনস্টার’-এর চতুর্থ পর্ব ‘দ্য লিজি বর্ডেন স্টোরি’ ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেখা যাচ্ছে। জেফ্রি ডাহমার, মেনেন্দেজ ভাই এবং এড গিনকে নিয়ে তিনটি পুরুষকেন্দ্রিক মরসুমের পরে প্রথমবার কোনও নারীকে ধারাবাহিকটির কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এল্লা বিটি অভিনয় করেছেন লিজি বর্ডেনের ভূমিকায়।
১৮৯২ সালে ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারে লিজির বাবা অ্যান্ড্রু বর্ডেন ও সৎমা অ্যাবি বর্ডেন কুঠারের আঘাতে নিহত হন। লিজির বিরুদ্ধে বিচার হলেও তিনি খালাস পান। হত্যার দায় আইনিভাবে তাঁর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং ঘটনাটি আজও অমীমাংসিত। ফলে নাট্যরূপে তাঁকে সরাসরি হত্যাকারী হিসেবে দেখানো হলে ইতিহাস ও কল্পনার সীমা স্পষ্ট করা জরুরি।
চার্লি হানাম অ্যান্ড্রু এবং রেবেকা হল অ্যাবির ভূমিকায় রয়েছেন। নির্মাতা রায়ান মার্ফি ও ইয়ান ব্রেনান বলেছেন, ধারাবাহিকটি উনিশ শতকের নারীর সীমাবদ্ধ জীবন এবং দমিত রাগের বিষয় অনুসন্ধান করে। কিন্তু সামাজিক ব্যাখ্যা কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ নয়। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে আটকে থাকা এক নারী একই সঙ্গে নির্দোষ, জটিল অথবা অপরাধী—যে কোনও সম্ভাবনাই থাকতে পারে।
‘মনস্টার’ সিরিজ এর আগে বিপুল দর্শক পেয়েছে, পাশাপাশি নিহত মানুষের যন্ত্রণা বিনোদনে রূপান্তর করা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। সত্য-অপরাধের কাহিনিতে দর্শক অনেক সময় অপরাধীর মনস্তত্ত্বে বেশি সময় পান, অথচ নিহত ব্যক্তি ও পরিবারের জীবন কয়েক মিনিটে সীমিত থাকে। লিজি বর্ডেনের ক্ষেত্রে এক শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নৈতিক প্রশ্ন বিলীন হয় না।
নারীকেন্দ্রিক মরসুম ঘোষণাকে প্রতিনিধিত্বের অগ্রগতি হিসেবে বাজারজাত করা সহজ। কিন্তু নারী চরিত্রকে কেন্দ্রে আনা এবং নারীর জীবনকে দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপন করা একই বিষয় নয়। “নারীর রাগ” যদি কেবল কুঠার, রক্ত ও বিপণনযোগ্য রহস্যে সীমিত হয়, তা পুরনো ভয়কেই নতুন মোড়কে ফিরিয়ে আনতে পারে।
অন্যদিকে বর্ডেনের কাহিনি এমন এক সময়ের জানালা, যখন নারীর সম্পত্তি, চলাফেরা, যৌনতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা সীমিত ছিল। বিচার ও সংবাদপত্রেও তাঁর আচরণ, পোশাক এবং তথাকথিত নারীত্বের মান বিচার করা হয়েছিল। ধারাবাহিকটি সেই সামাজিক কাঠামো দেখাতে পারলে প্রচলিত ছড়ার বাইরের ইতিহাস সামনে আসতে পারে।
নির্মাতারা আরও কয়েকজন কুখ্যাত নারী অপরাধীর গল্পের ইঙ্গিত ব্যবহার করেছেন। এতে একটি বৃহত্তর বিষয় তৈরি হয়, কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা সময়, অপরাধ ও সামাজিক পরিস্থিতিকে একই “নারীর হিংসা” শ্রেণিতে ফেলার ঝুঁকিও থাকে। প্রত্যেক ঘটনার প্রমাণ ও আইনি ফল আলাদাভাবে বোঝানো প্রয়োজন।
বিশ্লেষণ: সত্য-অপরাধ এখন অনলাইন মঞ্চের নির্ভরযোগ্য দর্শক-আকর্ষণকারী পণ্য। অমীমাংসিত ঘটনা নির্মাতাকে নাটকীয় স্বাধীনতা দেয়, আবার ভুল নিশ্চয়তা তৈরির সুযোগও বাড়ায়। পর্দায় কোন অংশ আদালতের নথি, কোনটি ইতিহাসবিদের অনুমান এবং কোনটি চিত্রনাট্যকারের সৃষ্টি—দর্শককে তা জানানো উচিত।
‘মনস্টার’-এর প্রথম নারী মরসুম হওয়াই সাংস্কৃতিক সাফল্য নয়। মাপকাঠি হবে, ধারাবাহিকটি লিজিকে পুরুষ অপরাধীদের পাশে নতুন এক বিক্রিযোগ্য দৈত্য বানায়, না কি অপরাধ, বিচার, শ্রেণি ও লিঙ্গের অনিশ্চিত সম্পর্ক দেখায়। খালাস পাওয়া মানুষকে নিশ্চিত হত্যাকারী বানিয়ে উত্তেজনা তৈরি করলে “নারীর রাগ” শেষ পর্যন্ত ব্যবসার ভাষাই হয়ে থাকবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



