জ্বালানি নিরাপত্তায় অটল থাকার বার্তা ভারতের

যা জানা জরুরি
- রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল মার্কিন প্রতিনিধি সভায় পাশ হওয়ার পরে ভারত জানাল, দেশের মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে তারা অটল।
- বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, “দেশবাসীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি সভায় পাশ হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড…
- মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলির পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর অভূতপূর্ব ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিচ্ছে এই বিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল মার্কিন প্রতিনিধি সভায় পাশ হওয়ার পরে ভারত জানাল, দেশের মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে তারা অটল। বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, “দেশবাসীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি সভায় পাশ হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’। মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলির পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর অভূতপূর্ব ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিচ্ছে এই বিল। ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা ভারত এবং চিনও এর আওতায় পড়তে পারে। বিলটি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়।
নিষেধাজ্ঞা বিলে কী রয়েছে
ট্রাম্পের বক্তব্য, রাশিয়ার অর্থের জোগানের সমস্ত পথ বন্ধ করতে চায় আমেরিকা। সেই লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা বিল। দু’বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া ইউক্রেনের পক্ষে প্রথম বড় পদক্ষেপ এটি।
বিলের প্রধান লক্ষ্য মস্কোর জ্বালানি রফতানি থেকে আয় কমানো। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় বিদেশি ক্রেতাদের পণ্যের উপর নিজের বিবেচনায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।
নির্ধারিত মূল্যসীমার নিচে ছাড়ের দামে রুশ তেল পরিবহণে যুক্ত জাহাজ, পণ্য পরিবহণের সহায়ক সংস্থা এবং সমুদ্রপথে পরিবহণ পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রয়েছে বিলে। পাশাপাশি রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব, সরকারি আধিকারিক, ব্যাঙ্ক এবং জ্বালানি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের উপর সরাসরি প্রভাব না ফেললেও, ইরানের সামরিক ও জ্বালানি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে চালু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করছে এই বিল।
রাশিয়া থেকে কত জ্বালানি কেনে ভারত
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও কয়লার দুই প্রধান ক্রেতা চিন এবং ভারত। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার বা সিআরইএ-র হিসাবে, ২০২৬ সালের জুনের শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সপ্তম বৃহত্তম আমদানিকারক ছিল ভারত।
সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে সর্বকালীন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। জুনে ভারত ৪৫০ কোটি ইউরোর রুশ অপরিশোধিত তেল কিনেছে।”
২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত রাশিয়ার মোট কয়লা রফতানির ৩৭ শতাংশ কিনেছে চিন। ভারতের ভাগ ছিল ১৯ শতাংশ।
একই সময়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রফতানির ৩৬ শতাংশ গিয়েছে ভারতে। ফলে রুশ অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হয়েছে নয়াদিল্লি। প্রথম স্থানে চিন; রাশিয়ার রফতানি করা অপরিশোধিত তেলের ৫০ শতাংশই কিনেছে তারা।
সিআরইএ-র তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের জুনেই ভারত রাশিয়া থেকে মোট ৫৫০ কোটি ইউরোর জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করেছে। ওই মাসে রুশ জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ছিল দ্বিতীয় স্থানে।
ভারতের মোট কেনাকাটার ৮৩ শতাংশ ছিল অপরিশোধিত তেল, যার মূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি ইউরো। এ ছাড়া ভারত কিনেছে ৪৮ কোটি ৮০ লক্ষ ইউরোর পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং ৪৪ কোটি ৪০ লক্ষ ইউরোর কয়লা। মোট ব্যয়ে এই দুইয়ের ভাগ যথাক্রমে প্রায় ৯ ও ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের জুনে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই মাসে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে ৩৪ শতাংশ, যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।”
জুনে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চিন। তাদের ব্যয় হয়েছে ৭৩০ কোটি ইউরো। রাশিয়ার প্রধান পাঁচ ক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া মোট জ্বালানি রফতানি আয়ের ৪১ শতাংশই এসেছে চিন থেকে।
ওই মাসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটেনের বিমান জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছাড়ের সুযোগ নিয়ে জামনগর শোধনাগারে পরিশোধিত জ্বালানির প্রথম চালান পৌঁছেছে সে দেশে। চালানটির মূল্য ছিল প্রায় ৬ কোটি ৩০ লক্ষ ইউরো।
এখানে মাসিক কেনাকাটার অঙ্কগুলি ২০২৬ সালের জুনের। অন্যদিকে রাশিয়ার মোট রফতানিতে ভারত ও চিনের অংশের হিসাবটি ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের সম্মিলিত পরিসংখ্যান।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
“আগেও একাধিক বার জানানো হয়েছে, ১৪০ কোটি দেশবাসীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভারত সেই চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
“গত কয়েক মাসে আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি উঠেছে। এই পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব যে শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়বে, ভারতীয় পক্ষ তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
“নিজের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিতে ভারত যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তা-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দেশের বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এ বিষয়ে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের উপর নজর রাখছে ভারত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



