সেপ্টেম্বরের অগ্রিম কর বাদ গেলে অপেক্ষা নয়, সুদের ঘড়ি ইতিমধ্যেই চলছে

যা জানা জরুরি
- চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় অগ্রিম কর-কিস্তির শেষ দিন ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর।
- এই তারিখের মধ্যে মোট আনুমানিক করের অন্তত ৪৫ শতাংশ জমা দেওয়ার কথা।
- যাঁরা সময়সীমা পেরিয়েছেন, তাঁদের কর দেওয়ার সুযোগ শেষ হয়নি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় অগ্রিম কর-কিস্তির শেষ দিন ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। এই তারিখের মধ্যে মোট আনুমানিক করের অন্তত ৪৫ শতাংশ জমা দেওয়ার কথা। যাঁরা সময়সীমা পেরিয়েছেন, তাঁদের কর দেওয়ার সুযোগ শেষ হয়নি। দ্রুত ঘাটতি মেটালে পরবর্তী সুদ বাড়া কমে, যদিও ইতিমধ্যে প্রযোজ্য বিলম্বসুদ মুছে যায় না।
বেতন, পেশা, ব্যবসা, ভাড়া, সুদ, লভ্যাংশ ও মূলধনি লাভ মিলিয়ে উৎসে কর কাটার পরে বছরের সম্ভাব্য বকেয়া অন্তত ১০ হাজার টাকা হলে সাধারণভাবে অগ্রিম কর দিতে হয়। হিসাবটি মোট আয়কর থেকে প্রযোজ্য উৎসে কর-কাটা বা সংগ্রহ বাদ দিয়ে করা হয়। শুধু চাকরির আয় আছে বলেই দায় থাকবে না—নিয়োগকর্তা যথেষ্ট কর না কাটলে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
সাধারণ করদাতার কিস্তির হার ১৫ জুনে ১৫ শতাংশ, ১৫ সেপ্টেম্বরে মোট ৪৫ শতাংশ, ১৫ ডিসেম্বরে ৭৫ শতাংশ এবং ১৫ মার্চে শতভাগ। ৪৪এডি বা ৪৪এডিএ ধারার অনুমানভিত্তিক করব্যবস্থায় যোগ্য ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সাধারণত ১৫ মার্চের মধ্যে পুরো অগ্রিম কর দিতে পারেন। ব্যবসা বা পেশার আয় নেই এমন ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী আবাসিক প্রবীণ নাগরিক অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি পান।
কিস্তিতে ঘাটতি হলে ২৩৪সি ধারায় সাধারণভাবে মাস বা মাসের অংশপিছু এক শতাংশ সরল সুদ লাগে। সেপ্টেম্বরের ক্ষেত্রে তিন মাসের জন্য সুদ গণনা হতে পারে। আইনে নির্দিষ্ট সহনসীমাও রয়েছে: সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ৪৫ শতাংশের বদলে অন্তত ৩৬ শতাংশ দেওয়া থাকলে ওই কিস্তির জন্য ২৩৪সি সুদ নাও লাগতে পারে। ব্যক্তির প্রকৃত হিসাব আয় ও করছাড়ের উপর নির্ভর করবে।
৩১ মার্চের মধ্যে মোট নির্ধারিত করের অন্তত ৯০ শতাংশ না মেটালে ২৩৪বি ধারার সুদও প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে দেওয়া কর অগ্রিম কর হিসেবেই ধরা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের সময়সীমা পেরোলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা সব ক্ষেত্রে লাভজনক নয়। অনলাইন আয়কর পোর্টালের ‘ই-পে ট্যাক্স’ ব্যবস্থায় সঠিক মূল্যায়ন বছর ও অগ্রিম করের ঘর বেছে টাকা দেওয়া যায়।
মূলধনি লাভ, লভ্যাংশ, লটারি বা নতুন ব্যবসার মতো আয় আগে অনুমান করা সম্ভব না হলে আইনে কিছু ছাড় রয়েছে। আয় হওয়ার পরে অবিলম্বে পরবর্তী কিস্তিতে সংশ্লিষ্ট কর দিলে পূর্ববর্তী কিস্তির ঘাটতির সুদ এড়ানো যেতে পারে। এই সুবিধা ইচ্ছাকৃত কম অনুমান বা আগে থেকেই জানা নিয়মিত আয়ের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।
হিসাবের সময় মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বিক্রির লাভ, স্থায়ী আমানতের অর্জিত সুদ, দ্বিতীয় বাড়ির ভাড়া এবং বিদেশি আয় বাদ পড়ে যায়। ব্রোকারের লাভ-ক্ষতির বিবরণ, বার্ষিক তথ্যবিবরণী, ফর্ম ২৬এএস এবং ব্যাঙ্কের সুদ-শংসাপত্র একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু বার্ষিক তথ্যবিবরণীতে কোনও অঙ্ক না থাকাকে করমুক্তির প্রমাণ ধরা যায় না।
বিশ্লেষণ: অগ্রিম কর আলাদা কোনও অতিরিক্ত কর নয়; বছরের কর আগেভাগে কিস্তিতে দেওয়া। ভুল অনুমানের প্রকৃত খরচ আসে সুদ ও নগদপ্রবাহে। অনিশ্চিত আয় থাকলে নিয়মিত পুনর্গণনা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। জটিল মূলধনি লাভ, বিদেশি আয় বা ব্যবসার ক্ষেত্রে নিজস্ব হিসাবের সঙ্গে পেশাদার পরামর্শ মিলিয়ে নেওয়া উচিত; সাধারণ কিস্তির হার ব্যক্তিবিশেষের চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



