মেয়াদপূর্তির শেষ মিনিটে দামের ঝড় ঠেকাতে নতুন হিসাব ভাবছে সেবি

যা জানা জরুরি
- শেয়ার ও সূচক-ভিত্তিক ডেরিভেটিভ চুক্তির মেয়াদপূর্তির দিনে অস্বাভাবিক মূল্য-দোলাচল কমাতে নিষ্পত্তিমূল্য গণনার পদ্ধতি বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছে সেবি।
- ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পরামর্শপত্রটি নিয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মতামত নেওয়া হবে।
- এগুলি এখনও প্রস্তাব; কোনও নতুন হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়নি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
শেয়ার ও সূচক-ভিত্তিক ডেরিভেটিভ চুক্তির মেয়াদপূর্তির দিনে অস্বাভাবিক মূল্য-দোলাচল কমাতে নিষ্পত্তিমূল্য গণনার পদ্ধতি বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছে সেবি। ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পরামর্শপত্রটি নিয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মতামত নেওয়া হবে। বাজারে আলোচনাটি জোর পায় ১৫ সেপ্টেম্বর। এগুলি এখনও প্রস্তাব; কোনও নতুন হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়নি।
শেয়ারবাজার বন্ধ হওয়ার আগে নির্ধারিত সময়ের গড় দামের ভিত্তিতে নগদে নিষ্পত্তিযোগ্য ফিউচার ও অপশন চুক্তির শেষ মূল্য নির্ধারিত হয়। এই ছোট সময়ের মধ্যে বড় অর্ডার ঢুকলে সংশ্লিষ্ট শেয়ার এবং সূচক দ্রুত সরে যেতে পারে। অপশন বিক্রেতা, আচ্ছাদনহীন অবস্থান রাখা ব্যবসায়ী এবং সূচক অনুসরণকারী তহবিলের ক্ষতির অঙ্কও কয়েক মিনিটে পাল্টে যায়।
৩ আগস্ট থেকে ফিউচার ও অপশন বিভাগে থাকা শেয়ারের জন্য ক্লোজিং অকশন সেশন চালু হয়েছে। নিয়মিত লেনদেনের পরে হওয়া এই নিলামে শেষদর নির্ধারণে ক্রেতা ও বিক্রেতার অর্ডার মেলানো হয়। সেবির মতে, নিলামটি সাধারণ দিনের শেষদরকে বেশি নির্ভরযোগ্য করতে পারে। তবে মেয়াদপূর্তির নিষ্পত্তিমূল্যে নতুন নিলামের দাম যুক্ত হওয়ায় আরেকটি স্বল্প সময়ের জানালা তৈরি হয়েছে।
সেবি দুটি বিকল্প নিয়ে মতামত চেয়েছে। প্রথমটিতে নিয়মিত বাজারের শেষ ৩০ মিনিট এবং দশ মিনিটের ক্লোজিং নিলাম—দুই পর্বের দাম মিলিয়ে নিষ্পত্তিমূল্য হবে। দ্বিতীয়টিতে অন্তত এক বছর নিলামের দাম বাদ রেখে কেবল নিয়মিত বাজারের শেষ ৩০ মিনিটের পরিমাণ-ভারিত গড় ব্যবহার করা হবে। প্রথম বিকল্প নতুন ব্যবস্থাকে দ্রুত যুক্ত করে; দ্বিতীয়টি পর্যবেক্ষণের সময় দেয়।
আরও কয়েকটি পরিচালন পরিবর্তন প্রস্তাবিত হয়েছে। নিলামের নির্ধারিত দরের এক শতাংশের বেশি দূরে থাকা অর্ডার সহজে বাতিল করা যাবে না। নিলামের পরে ডেরিভেটিভ অবস্থান সামলানোর জানালা দশ মিনিট থেকে পাঁচ মিনিটে নামতে পারে। নিলাম চলাকালীন সম্ভাব্য সূচক-শেষদর দেখানোও বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে সেই অসম্পূর্ণ সংকেত দেখে দ্রুত অর্ডারের ঢেউ না নামে।
ছোট বিনিয়োগকারীর কাছে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মেয়াদপূর্তির দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণনির্ভর অবস্থান ধরে রাখা। অপশন ক্রেতার সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধারণত দেওয়া প্রিমিয়ামে সীমিত, কিন্তু আচ্ছাদনহীন অপশন বিক্রেতার ক্ষতি অনেক বড় হতে পারে। ফিউচারেও মার্জিনের তুলনায় প্রকৃত বাজার-ঝুঁকি বেশি। একটি নতুন নিষ্পত্তি-সূত্র এই মৌলিক ঝুঁকি দূর করবে না।
সেবির তথ্য অনুযায়ী ক্লোজিং নিলাম এখনও নতুন ব্যবস্থা। পর্যাপ্ত দিনের অর্ডার, অংশগ্রহণ এবং মূল্যবিচ্যুতি না দেখে সেটিকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মূল উপাদান করলে অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা দিতে পারে। আবার নিলাম পুরো বাদ দিলে শেষ ৩০ মিনিটে দাম প্রভাবিত করার পুরনো প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। স্বাধীন বাজার-তথ্য প্রকাশ তাই সিদ্ধান্তের আগে জরুরি।
বিশ্লেষণ: নিষ্পত্তিমূল্যের কয়েক দশমিক পরিবর্তন বড় ডেরিভেটিভ অবস্থানে বিপুল টাকা সরায়। সেবির লক্ষ্য সেই হিসাবকে গভীর ও কম প্রভাবিতযোগ্য বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা। কার্যকর সমাধান নির্ভর করবে নিলামে কত অর্ডার আসে, কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং নগদ ও ডেরিভেটিভ বাজারের সময় কত ভালোভাবে মেলে তার উপর। প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীর বর্তমান নিয়মই অনুসরণ করা উচিত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



