সন্দেহজনক লেনদেনে টাকা আটকালেও সময়সীমা বাঁধতে চায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

যা জানা জরুরি
- সাইবার প্রতারণার টাকা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে সন্দেহজনক ‘মানি মিউল’ লেনদেন সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার নিয়ম প্রস্তাব করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
- ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া নির্দেশিকাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি; মতামত দেওয়ার শেষ দিন ২ অক্টোবর।
- চূড়ান্ত হলে নিয়মটি ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, যদিও কোনও ব্যাঙ্ক চাইলে তার আগেও ব্যবস্থা চালু করতে পারবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সাইবার প্রতারণার টাকা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে সন্দেহজনক ‘মানি মিউল’ লেনদেন সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার নিয়ম প্রস্তাব করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া নির্দেশিকাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি; মতামত দেওয়ার শেষ দিন ২ অক্টোবর। চূড়ান্ত হলে নিয়মটি ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, যদিও কোনও ব্যাঙ্ক চাইলে তার আগেও ব্যবস্থা চালু করতে পারবে।
মানি মিউল হিসাব বলতে এমন ব্যাঙ্ক হিসাব বোঝায়, যার মাধ্যমে প্রতারণা বা অপরাধের টাকা গ্রহণ, স্তরবিন্যাস কিংবা অন্যত্র সরানো হয়। হিসাবধারী কখনও জেনেশুনে কমিশনের বিনিময়ে কাজ করেন, আবার কখনও চাকরি, ঋণ বা বিনিয়োগের প্রলোভনে নিজের হিসাবের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে প্রতারিত হন। খসড়ায় এক হাজার টাকা বা তার বেশি অস্বাভাবিক এবং সম্ভাব্য প্রতারণা-সংযুক্ত লেনদেনকে সাময়িক স্থগিত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাঙ্ককে প্রথমে নির্দিষ্ট সন্দেহজনক অঙ্কটিই আটকাতে হবে। গোটা হিসাব থেকে টাকা তোলা বন্ধ রাখা ব্যতিক্রমী ও শেষ উপায় হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এতে একটি প্রতারণার অভিযোগের কারণে বেতন, পেনশন বা সংসারের অন্য বৈধ টাকা অনির্দিষ্টকাল আটকে যাওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। তবে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ভুল সংকেত দিলে প্রকৃত গ্রাহকের লেনদেনও থামতে পারে।
টাকা আটকানোর পরে ব্যাঙ্ককে ডিজিটাল মাধ্যমে অবিলম্বে, অথবা ডাকযোগে পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে হিসাবধারীকে জানাতে হবে। গ্রাহক ব্যাখ্যা ও নথি দেওয়ার জন্য ২০ দিন পাবেন। উত্তর পাওয়ার দশ দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গ্রাহক উত্তর না দিলে, প্রাথমিক অবরোধের ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ক নিজের পর্যালোচনা শেষ করবে।
বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হলেও অনির্দিষ্ট অপেক্ষার সুযোগ রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে কোনও আইনি নির্দেশ না দিলে ৩১তম দিনে টাকা ছাড়তে হবে। আদালত, পুলিশ বা অন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থার বিপরীত নির্দেশ না থাকলে ব্যাঙ্কের নিজস্ব সাময়িক নিষেধাজ্ঞার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৬০ দিন। অভিযোগের নিষ্পত্তিও সাধারণভাবে ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।
ব্যাঙ্কগুলিকে একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল অফিসারের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। গ্রাহকের পক্ষে লেনদেনের উৎস প্রমাণ করতে চালান, বেতনপত্র, বিক্রয়রসিদ, ঋণচুক্তি ও যোগাযোগের নথি সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। অপরিচিত ব্যক্তিকে হিসাব ব্যবহার করতে দেওয়া, কমিশনের বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করে অন্যত্র পাঠানো কিংবা অজানা প্রতিষ্ঠানের হয়ে নগদ তুলে দেওয়া সরাসরি ঝুঁকির কারণ।
খসড়াটি ব্যাঙ্কের বর্তমান অর্থপাচার-প্রতিরোধ এবং আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব বাতিল করছে না। বরং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের সঙ্গে পরবর্তী তদন্তের সময়সীমা জুড়ছে। প্রতারণার অভিযোগ জানানো ব্যক্তির দাবিই অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; ব্যাঙ্ককে লেনদেনের ধরন, গ্রাহকের ইতিহাস এবং পাওয়া নথি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিশ্লেষণ: দ্রুত টাকা আটকানো প্রতারিত ব্যক্তির অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। একই ক্ষমতা ভুলভাবে প্রয়োগ হলে নির্দোষ হিসাবধারীর দৈনন্দিন জীবন থেমে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক আটকানো, লিখিত কারণ, আপত্তির সুযোগ এবং ৬০ দিনের ঊর্ধ্বসীমা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা। চূড়ান্ত নির্দেশিকায় ভুল অবরোধের ক্ষতিপূরণ, স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণের নিরীক্ষা এবং অভিযোগের ফল প্রকাশের নিয়ম আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



