খবর

মোখা বন্দর হুথিদের দখলে, লোহিত সাগরে বিশ্ববাণিজ্যের পথে নতুন বিপদ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করল ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
  • বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বরের এই অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
  • ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীর কমান্ডার আহমেদ বাশ এবং হুথিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য হাজাম আল-আসাদ, উভয়েই বন্দর দখলের খবর নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করল ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বরের এই অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীর কমান্ডার আহমেদ বাশ এবং হুথিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য হাজাম আল-আসাদ, উভয়েই বন্দর দখলের খবর নিশ্চিত করেছেন।

বাব এল-মান্দেব প্রণালী থেকে মোখার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী এই জলপথ দিয়ে সাধারণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণের প্রায় ১২ শতাংশ চলাচল করে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মোখার নিয়ন্ত্রণ বদল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাস্তায় হুথি যোদ্ধাদের উপস্থিতি বেড়েছে, দোকানপাট বন্ধ। তিন চিকিৎসকের দাবি, হুথিরা হাসপাতাল দখল করার পরে তাঁরা পালিয়েছেন। অনেকে দক্ষিণে এডেনের দিকে যাচ্ছেন। তবে হাসপাতাল দখল ও বাসিন্দাদের পালানোর বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

রয়টার্সকে ইয়েমেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মোখা দখলের পরে হুথিরা হানিশ দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সরকারপন্থী বাহিনী আরও দক্ষিণে ধুবাবের দিকে সরছে। প্রণালীর উপকূলে অবস্থিত ধুবাব ও তার উল্টো দিকের পেরিম দ্বীপ সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মোখা দখল মানেই গোটা প্রণালী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না। তবে সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা তাদের বেড়েছে।

হুথি মুখপাত্র মহম্মদ আবদেলসালামের দাবি, অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এবং ইয়েমেনের ওপর আক্রমণ বন্ধ হলে তা থামবে। সংগঠনটির বক্তব্য, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সংস্থার নৌচলাচল নিরাপদ। সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

এই সংঘর্ষের অর্থনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে হরমুজ প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরের পথের ওপর বেশি নির্ভর করছে। এবার সেই পথেও হুথিদের সামরিক চাপ বাড়লে সরবরাহে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। বৃহস্পতিবার সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অশোধিত তেলের দাম একসময় প্রায় চার শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছয়। হরমুজের পাশাপাশি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বাব এল-মান্দেবের এক দিকে ইয়েমেন, অন্য দিকে আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়া। এশিয়া থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে পণ্য পরিবহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। ২০২৩ সালের শেষ দিকে হুথিদের হামলার পর বহু জাহাজ সংস্থা এই পথ এড়িয়ে চলেছিল; বেড়েছিল পরিবহণের সময় ও ভাড়া। নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়লে একই ধরনের চাপ ফিরতে পারে। অর্থাৎ বন্দরের সামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত জাহাজের যাত্রাপথ, পণ্য পৌঁছনোর সময় এবং বাণিজ্যের খরচের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে।

জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হলেও হামলার আশঙ্কা বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। কোন জাহাজকে লক্ষ্য করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে থাকলে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাসের ওপর কতটা ভরসা করা যায়, সেটাই প্রশ্ন। পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, মোখার পতনের গুরুত্ব শুধু মানচিত্রে শহরের রং বদলে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জন্য বিপদ আরও প্রত্যক্ষ। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পরে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি বড় সংঘর্ষ কমিয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী শান্তি আনেনি। নতুন লড়াই সেই ভঙ্গুর ব্যবস্থাকে বিপন্ন করছে। মোখা খাদ্য ও সাহায্য পৌঁছনোরও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ; সেখানে সংঘর্ষ বাড়লে ত্রাণ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৌদি বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, কূটনীতির পথ বন্ধ হয়নি, তবে দেশ আত্মরক্ষায় পিছপা হবে না। ফলে সামনে একই সঙ্গে যুদ্ধ বিস্তারের ঝুঁকি এবং আলোচনার প্রয়োজন বাড়ছে। বন্দর দখলের পরে নজর থাকবে হুথিদের পরবর্তী অগ্রযাত্রা, সরকারি বাহিনীর প্রতিক্রিয়া এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতির দিকে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles