খবর

কুড়ি বছর পরে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, বাড়ল কূটনৈতিক চাপ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে সংঘাত এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে।
  • কুড়ি বছরের মধ্যে প্রথমবার তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের বিষয়টি পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ করল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, আইএইএ-র পরিচালন পর্ষদ।
  • বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে সংঘাত এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে। কুড়ি বছরের মধ্যে প্রথমবার তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের বিষয়টি পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ করল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, আইএইএ-র পরিচালন পর্ষদ। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূল অভিযোগ, অঘোষিত কয়েকটি স্থানে পাওয়া ইউরেনিয়ামের চিহ্ন সম্পর্কে দীর্ঘদিনের তদন্তে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না ইরান।

পশ্চিমি আধিকারিকদের সন্দেহ, ওই চিহ্নগুলি ২০০৩ সাল পর্যন্ত ইরানে গোপন পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি চলার প্রমাণ দিতে পারে। ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে না; তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। অতীতের সম্ভাব্য গোপন কার্যকলাপ নিয়ে সন্দেহ এবং বর্তমানে পরমাণু বোমা তৈরির প্রমাণ অবশ্য এক বিষয় নয়। গৃহীত প্রস্তাবকে বর্তমান অস্ত্র নির্মাণের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না।

আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি প্রস্তাবটি পেশ করে। সংস্থার ৩৫ সদস্যের পরিচালন পর্ষদে পক্ষে ভোট পড়ে ২৩টি। বিরোধিতা করে রাশিয়া, চিন ও নাইজার। আটটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। বকেয়া চাঁদার কারণে আর একটি দেশ ভোট দিতে পারেনি বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হলেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলির মধ্যে মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে।

এই পদক্ষেপের সূত্রপাত গত বছরের জুনে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আইএইএ-র পর্ষদ ইরানকে পরমাণু উপাদানের নজরদারি সংক্রান্ত চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ বলে ঘোষণা করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাতে প্রয়োজন ছিল পৃথক প্রস্তাবের। এবার সেই প্রক্রিয়া এগোল। সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসিকে বর্তমান ও আগের প্রস্তাবগুলি নিরাপত্তা পরিষদ এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

তদন্তের পাশাপাশি উদ্বেগ রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়েও। গত বছরের জুনে ইজরায়েল এবং পরে আমেরিকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শকেরা ফিরে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করতে পারেননি। হামলার আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। এখন সেই মজুতের কতটা অবশিষ্ট, কোথায় রয়েছে এবং তার অবস্থা কী, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ চাইছে সংস্থা। প্রস্তাবেও ইরানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

তেহরান অবশ্য সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের বক্তব্য, বর্তমান অচলাবস্থার দায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক হামলার। যুদ্ধের মধ্যে পরিদর্শনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেছে তারা। তাদের যুক্তি, এই পরিস্থিতিকে শুধু অসহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরলে হামলার বাস্তবতা আড়াল করা হয়। ফলে পরমাণু নজরদারি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সামরিক নিরাপত্তার প্রশ্নও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি পৌঁছনোর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিবেচনার পথ খুলতে পারে। কিন্তু আইএইএ-র এই ভোট নিজে কোনও নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে না। পরিষদে স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চিনের প্রস্তাব আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দুই দেশই তেহরানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। আপাতত সবচেয়ে স্পষ্ট ফল, ইরানের উপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন পরমাণু স্থাপনার নিরাপত্তা, মজুতের হিসাব এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকলে সন্দেহ নিরসনও কঠিন হয়ে পড়ে। আবার তেহরান সামরিক হামলাকেই সহযোগিতার প্রধান বাধা হিসেবে তুলে ধরছে। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ পাঠানো সংকটকে নতুন কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে গেল। এখন নজর থাকবে পরিষদের প্রতিক্রিয়া এবং পরিদর্শন ফেরানোর কোনও বাস্তবসম্মত সমঝোতা হয় কি না, তার দিকে। তবে অগ্রগতি বুঝতে শুধু ভোটের ফল যথেষ্ট নয়; পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার, প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে আগামী দিনে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles