খবর

নেপালে বন্যায় মৃত ১,৩৭৭, পাঁচ হাজারের বেশি নিখোঁজের খোঁজে তল্লাশি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৩৭৭।
  • বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলি থেকে এ পর্যন্ত ১৩,৬৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
  • বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজের সংখ্যা বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৩৭৭। এখনও খোঁজ নেই পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের। বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলি থেকে এ পর্যন্ত ১৩,৬৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজের সংখ্যা বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। কাদামাটি, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। কোথাও আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, কোথাও চলছে মৃতদেহ খুঁজে বের করার কাজ। স্বজনদের সন্ধানে অসংখ্য পরিবারের অপেক্ষা তাই এখনও শেষ হয়নি।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চিনের তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার পরে এই বিপর্যয় ঘটে। পাহাড় থেকে নেমে আসা জল, বরফ, পাথর ও কাদার প্রচণ্ড স্রোত নদী উপত্যকার জনপদগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। বাড়িঘরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছনোর পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী যন্ত্র, খননযন্ত্র ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলি।

অনুসন্ধানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গ। বহু শ্রমিক সেখানে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা। ত্রিশূলী থ্রি এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে বিপর্যয়ের নয় দিন পরে দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশা জাগিয়েছে। সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহার্জন নামে ওই দু’জনকে সুড়ঙ্গের প্রায় ১৭০ মিটার ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে বড় পাথর, জমে থাকা জল এবং কাদায় সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় অন্যদের কাছে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন।

উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্গতদের কাছে খাবার, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় নেপালের সেনাবাহিনী ত্রাণ পরিবহণে চালকবিহীন উড়ন্ত যান ব্যবহার করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের দেওয়া চারটি এমন যানের সাহায্যে দিনে প্রায় দশ থেকে ষোলো বার ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলি একবারে সর্বোচ্চ ষাট কিলোগ্রাম সামগ্রী বহন করতে পারে। হেলিকপ্টারগুলি মূলত উদ্ধারকাজে ব্যস্ত থাকায় বিচ্ছিন্ন বসতিতে প্রয়োজনীয় সরবরাহ বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা কাজে লাগছে।

নেপালের উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে ভারতও। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ৪ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, তখনও ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ ছিলেন, উদ্ধার করা হয়েছিল ১৬৬ জনকে। ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছিল ভারত। পাশাপাশি পাঠানো হয় ৫৪ জনের বিশেষজ্ঞ দল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজের ত্রিশ জন বিশেষজ্ঞ, উনিশ জন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দল। নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তাঁরা কাজ করছেন।

দেহ শনাক্তকরণের কাজেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। গুজরাত সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের নিখোঁজ ত্রিশ জনের মধ্যে ঊনত্রিশ জনের আত্মীয়দের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নেপালে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের নমুনার সঙ্গে সেগুলি মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা হবে। গান্ধীনগর, আমদাবাদ, সুরাত, বদোদরা, জুনাগড় ও রাজকোটের ছয়টি নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে বিনামূল্যে এই প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া মানুষও রয়েছেন।

বিপর্যয়ে নিহতদের স্মরণে ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক পালন করেছে নেপাল। সরকারি দপ্তরে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। অনেক পরিবার প্রিয়জনের দেহ না পেয়েই প্রতীকী অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে উদ্ধারকাজে বিলম্বের অভিযোগ তুলে কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভও হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি উঠেছে। শোকের মধ্যেও অনুসন্ধান থামেনি। নয় দিন পরে দুই কর্মীর বেঁচে ফেরার ঘটনা অপেক্ষারত পরিবারগুলিকে আশার কারণ দিয়েছে। কিন্তু হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের পরিণতি এখনও অজানা। প্রতিটি নতুন উদ্ধারের খবর তাই স্বজনদের কাছে এখন অসীম গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধার, ত্রাণ, দেহ শনাক্তকরণ এবং যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ এখন একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হচ্ছে বিপর্যস্ত পাহাড়ি দেশটিকে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles