ছাত্রকে তিলক মুছতে বলার অভিযোগ, সাসপেন্ড শিক্ষিকা; এফআইআরের নির্দেশ শুভেন্দুর

যা জানা জরুরি
- কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে কপালের চন্দনের তিলক মুছে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে বলার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ছড়াল।
- অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
- তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে কপালের চন্দনের তিলক মুছে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে বলার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ছড়াল। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এ সব চলবে না।’’
ঘটনাটি দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকার হলি মিশন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের। অভিযোগ, ওই ছাত্র প্রতিদিন কপালে চন্দনের তিলক পরে বিদ্যালয়ে আসত। সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা তাকে বারবার তিলক মুছে এবং মুখ ধুয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে বলতেন। ছাত্রটিকে নিয়মিত অপমান ও হেনস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রটি নিজেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রকাশের অধিকার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসার পরে শিক্ষা দফতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পদক্ষেপ শুরু করে বলে প্রশাসন সূত্রের দাবি।
শুক্রবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ‘‘একটি মিশনারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক চন্দনের তিলক পরার জন্য ওই ছাত্রকে নিয়মিত হেনস্থা করতেন। তাকে প্রতিদিন তিলক মুছে মুখ ধুয়ে আসতে বলা হত। ওই শিক্ষিকাকে নিলম্বিত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।’’
এর আগের দিন গোলপার্কে বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদের এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, কে তিলক পরবেন কিংবা কে তুলসীর মালা ধারণ করবেন, তা ব্যক্তির বিশ্বাসের বিষয়। এগুলি বাংলার পরম্পরা ও ঐতিহ্যের অঙ্গ; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই বিশ্বাস পালনে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা কিছুটা আলাদা। বিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে বলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রটির তিলকটি লেপটে যাওয়ায় সেটি পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল; ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহারে আপত্তি তোলা হয়নি। বিদ্যালয়ে বহু ছাত্রছাত্রী তিলক পরে আসে এবং কাউকেই তা মুছতে বলা হয় না বলেও কর্তৃপক্ষের দাবি।
বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতি শিক্ষিকা, ছাত্র এবং তার পরিবারের বক্তব্য শোনার পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তত দিন শিক্ষিকা সাসপেন্ডেড থাকবেন। বিদ্যালয়ের সচিব জানিয়েছেন, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দফতর থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত নোটিস পাওয়ার পরেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়। তবে এফআইআর দায়ের হওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক থেকেই তাঁরা প্রথম জানতে পেরেছেন বলে তাঁর দাবি।
ফলে এক দিকে ছাত্রের অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অন্য দিকে শিক্ষিকার ‘ভুল বোঝাবুঝি’র ব্যাখ্যা—দুইয়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, তা এখন প্রশাসনিক ও পুলিশি তদন্তেই নির্ধারিত হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



