খবর

অন্ধ্রের আদিবাসী গ্রামে ম্যালেরিয়ার ওষুধ খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ প্রায় ৭০ জন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অন্ধ্রপ্রদেশের একটি আদিবাসী গ্রামে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ অভিযানে দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পরে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
  • অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শিশু-সহ প্রায় ৭০ জন গ্রামবাসী।
  • তবে ওই ওষুধই শিশুটির মৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অন্ধ্রপ্রদেশের একটি আদিবাসী গ্রামে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ অভিযানে দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পরে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শিশু-সহ প্রায় ৭০ জন গ্রামবাসী। তাঁদের অধিকাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ওই ওষুধই শিশুটির মৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু।

ঘটনাটি ঘটেছে পোলাভরম জেলার অন্ধ্রপ্রদেশ-তেলঙ্গানা সীমান্তবর্তী গোল্লাগুপ্পা গ্রামে। ম্যালেরিয়া সংক্রমণের খবর পাওয়ার পরে স্বাস্থ্য দফতর সেখানে জ্বর পরীক্ষা ও নজরদারি শিবির আয়োজন করেছিল। জেলা প্রশাসনের দাবি, গ্রামটিতে প্রথমে দু’জনের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু ধরা পড়ে। তার পরেই সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের মধ্যে ক্লোরোকুইন বড়ি বিতরণ করেন।

মৃত শিশুটির নাম মাদিভি জামুনা। দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বমি, পেটে জ্বালা এবং মাথা ঘোরার অভিযোগ করে। পরে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরীক্ষায় তার রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে কমে যাওয়ার লক্ষণও দেখা যায়। জামুনাকে প্রথমে নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে তেলঙ্গানার ভদ্রাচলম এলাকার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও বাঁচানো যায়নি।

একই সময়ে গ্রামের বহু শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক পেটে ব্যথা, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গের কথা জানায়। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, অসুস্থদের মধ্যে প্রায় ৫৪ জন পড়ুয়া। ৫০ জনেরও বেশি রোগী ভদ্রাচলম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আরও কয়েকজনকে গ্রামের বিশেষ চিকিৎসা শিবিরে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তাঁদের সকলের অবস্থা স্থিতিশীল; কেউ সঙ্কটজনক নন।

পোলাভরমের জেলাশাসক কে দীনেশ কুমারের দাবি, বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রাতেই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক মানপরীক্ষাতেও ক্লোরোকুইন বড়িতে কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ওষুধের নমুনা পুনরায় পরীক্ষার জন্য বিশাখাপত্তনমের অপরাধবিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকদের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, জামুনার কোনও অজানা বংশগত হৃদ্‌রোগ থাকতে পারে। ক্লোরোকুইনের প্রভাবে বিরল ক্ষেত্রে হৃদ্‌স্পন্দনে মারাত্মক অনিয়ম দেখা দিতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত, রক্তপরীক্ষা এবং ওষুধের পরীক্ষাগার-প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়।

কাকিনাড়া, রাজামহেন্দ্রবরম এবং বিজয়ওয়াড়া থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল এলাকায় পৌঁছেছে। গ্রামের প্রায় ২৭০ জন বাসিন্দার স্বাস্থ্য-পরিচিতি তৈরি করে রক্তাল্পতা, সিকল সেল রোগ এবং অন্য কোনও অসুস্থতা রয়েছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আক্রান্তদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ছাড়াই ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। প্রশাসন অবশ্য তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles