খবর

‘বিদ্রোহী ২০ সাংসদের সদস্যপদ শিগগিরই যাবে’, ছাত্র সমাবেশ থেকে দাবি মমতার

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পৃথক শিবিরে যাওয়া ২০ জন লোকসভা সাংসদের সদস্যপদ খারিজ হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা—কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ…
  • একই সঙ্গে রাজ্যের বিজেপি সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে পুলিশের যে ‘মানবিক মুখ’ ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এসে তাকে…
  • শুক্রবার মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে মমতার বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল দলত্যাগী সাংসদদের প্রসঙ্গ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পৃথক শিবিরে যাওয়া ২০ জন লোকসভা সাংসদের সদস্যপদ খারিজ হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা—কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ থেকে এমনই দাবি করলেন দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে রাজ্যের বিজেপি সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে পুলিশের যে ‘মানবিক মুখ’ ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এসে তাকে একটি ‘দানবীয় প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত করেছে।

শুক্রবার মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে মমতার বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল দলত্যাগী সাংসদদের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “২০ জন সাংসদ ভেবেছিলেন দল ছেড়ে দিয়েও সাংসদ পদটি রেখে দেবেন। কিন্তু সেটা হবে না। তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।” তাঁর দাবি, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধান মেনেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভা সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের দাবি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগ, লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটি শুনেছে। কেন্দ্রের পক্ষে আদালতে জানানো হয়, লোকসভার সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাঠিয়েছে। আদালতও বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে।

গত ২৫ আগস্ট লোকসভা সচিবালয় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিস দিয়ে সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য জানাতে বলেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ওই সাংসদেরা দলীয় সদস্যপদ ত্যাগ না করেই পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ফলে সংবিধানের দশম তফসিল অনুসারে তাঁরা সদস্যপদ ধরে রাখতে পারেন না।

বিদ্রোহী শিবির অবশ্য দাবি করে আসছে, তৃণমূলের লোকসভা সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ তাদের সঙ্গে থাকায় সদস্যপদ খারিজের প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পেলেই পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করে দলত্যাগ-বিরোধী আইন এড়ানো যায় না। আইনি সুরক্ষা পেতে হলে মূল রাজনৈতিক দলের অন্য দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংযুক্তি প্রয়োজন। নিছক সংসদীয় দলে বিভাজনকে সংযুক্তি বলা যায় না। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের একাংশও এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন।

মমতা বলেন, মানুষের ভোটে তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে বিজেপির হাত ধরার অর্থ সেই জনাদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি চুরি করে বাংলা দখল করেছে। এখন আমাদের দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের রাজনৈতিক এবং আইনগত—দুই ক্ষেত্রেই জবাব দিতে হবে।”

সমাবেশে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরব হন। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের সময়ে পুলিশকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই বাহিনীকে বিরোধীদের দমন করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মমতার কথায়, “আমাদের সময়ে পুলিশের একটা মানবিক মুখ ছিল। এখন বিজেপি পুলিশকে দানবীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। তৃণমূল কর্মী দেখলেই মামলা দেওয়া হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে, বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে।”

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের ফলক সরানো ঘিরে পুলিশ ও তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গও তোলেন মমতা। ওই ঘটনায় অভিষেক-সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে মমতা বলেন, রাজনৈতিক নির্দেশ পালন করতে গিয়ে পুলিশ যেন আইন ও মানবিকতা—দুটিই বিসর্জন না দেয়।

বিজেপির উদ্দেশে মমতার হুঁশিয়ারি, তৃণমূল কর্মীদের দিকে ডিম বা ইট ছুড়ে, মামলা দিয়ে কিংবা পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে থামানো যাবে না। তিনি শিগগিরই রাজ্যজুড়ে সফর শুরু করবেন এবং পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে পথে নামবেন বলেও ঘোষণা করেন। ছাত্র-যুবদের সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে।

দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে লোকসভা সচিবালয়ের নোটিস এবং সর্বোচ্চ আদালতে চলা মামলার মধ্যে মমতার এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। বিদ্রোহে বিপর্যস্ত তৃণমূলের কর্মীদের মনোবল ফেরানোর পাশাপাশি তিনি বুঝিয়ে দিলেন, সংসদীয় ও সাংগঠনিক—দুই স্তরেই দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাবে তাঁর দল। এখন নজর লোকসভার অধ্যক্ষ ও সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles