‘দ্বিতীয় বিয়ে’, নীরব সুনীতা

যা জানা জরুরি
- গোবিন্দ তাঁর সহ-অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকারকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি করার পর প্রথম বার প্রকাশ্যে দেখা গেল সুনীতা আহুজাকে।
- কিন্তু অপেক্ষমাণ সংবাদমাধ্যম ও আলোকচিত্রীদের এড়িয়েই চলে যান।
- ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
গোবিন্দ তাঁর সহ-অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকারকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি করার পর প্রথম বার প্রকাশ্যে দেখা গেল সুনীতা আহুজাকে। রবিবার জয়পুর বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। কিন্তু অপেক্ষমাণ সংবাদমাধ্যম ও আলোকচিত্রীদের এড়িয়েই চলে যান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি।
জয়পুর বিমানবন্দরে সুনীতার পরনে ছিল কালো টি-শার্ট ও ঢিলেঢালা ডোরাকাটা পালাজো। খোঁপা করা চুল, চোখে রোদচশমা। কপালে হলুদ তিলক, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা এবং হাতে একাধিক বালা নজর কেড়েছে। জানা গিয়েছে, জয়পুর সফরটি মূলত আধ্যাত্মিক। রবিবার একটি হোটেলে থাকার পর সোমবার খাটু শ্যামজি মন্দিরে যাওয়ার কথা তাঁর।
বিবাহবিচ্ছেদ, না কি প্রত্যাহার?
কয়েক দিন আগেই মুম্বইয়ের বান্দ্রা পারিবারিক আদালতের বাইরে দেখা গিয়েছিল সুনীতাকে। গোবিন্দর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা এগিয়ে নিতেই তিনি আদালতে গিয়েছেন বলে প্রথমে জল্পনা তৈরি হয়। পরে অভিনেত্রী রাখি সবন্তের সঙ্গে কথোপকথনে সুনীতা দাবি করেন, তিনি আসলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করতেই আদালতে গিয়েছিলেন।
কেন এমন সিদ্ধান্ত? সেখানেই আসে বিস্ফোরক অভিযোগ।
সুনীতার দাবি, গোবিন্দ এবং তাঁর সহ-অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকার নাকি বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি গতকাল বিবাহবিচ্ছেদের মামলা তুলে নিয়েছি, কারণ ওরা বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিল।”
তবে এই দাবির সমর্থনে এখনও প্রকাশ্যে কোনও নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেননি সুনীতা।
‘দ্বিতীয় বিয়ে হচ্ছে না’
অভিযোগ অবশ্য সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন গোবিন্দর ম্যানেজার শশী সিন্হা। তাঁর বক্তব্য, দ্বিতীয় বিয়ের কোনও প্রশ্নই নেই—এমন কিছু ঘটছে না, ভবিষ্যতেও ঘটবে না। সুনীতা কেন এমন দাবি করেছেন, তার উত্তর তাঁরাই দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে তাঁর আবেদন, দুই পরিণত মানুষ যেন নিজেদের এবং সন্তানদের স্বার্থে মতবিরোধ মিটিয়ে নেন। কারণ এই ধরনের নেতিবাচক প্রচারের প্রভাব তাঁদের সন্তানদের উপরও পড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
গোবিন্দকে এর আগে কোমল রানির সঙ্গে বিমানবন্দরে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সুনীতাও সেই সময় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গোবিন্দর বিচারবুদ্ধি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। তবে গোবিন্দ নিজে সম্পর্ক বা দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ স্বীকার করেননি।
চার দশকের দাম্পত্যে নতুন অস্বস্তি
গোবিন্দ ও সুনীতার বিয়ে ১৯৮৭ সালে। তাঁদের দুই সন্তান—টিনা ও যশবর্ধন। প্রায় চার দশকের দাম্পত্যের পর সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন ঘিরে তাঁদের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায়।
আর সেই বিতর্কের মাঝেই জয়পুরে সুনীতার এই নীরব সফর। ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য নয়, প্রশ্নেরও কোনও উত্তর নয়—শুধু মন্দিরমুখী যাত্রা।
অভিযোগ একদিকে, অস্বীকার অন্যদিকে। সত্যিটা কী, আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পর্দার আড়ালেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



