০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় বম্বে হাইকোর্টের দেওয়া দোষী সাব্যস্ত করার রায় এবং দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ‘তেহলকা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপাল। আইনজীবী আদিত্য সামাদ্দারের মাধ্যমে তাঁর আবেদনটি সর্বোচ্চ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবে মামলাটি কোন বেঞ্চে এবং কবে শুনানির জন্য উঠবে, তা এখনও জানা যায়নি।

গত ৬ আগস্ট বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে। একই সঙ্গে ২০২১ সালে মাপুসার দায়রা আদালতের দেওয়া বেকসুর খালাসের রায় খারিজ করে দেয় বিচারপতি নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসান্দেকরের বেঞ্চ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২)(এফ), ৩৭৬(২)(কে), ৩৫৪এ এবং ৩৫৪বি ধারায় তাঁকে দোষী ঘোষণা করা হয়। পরে তাঁকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রযোজ্য ধারাগুলির অধীনে এটিই ছিল ন্যূনতম কারাদণ্ড।

মামলাটি ২০১৩ সালের নভেম্বরের। অভিযোগ, গোয়ায় ‘তেহলকা’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় একটি বিলাসবহুল হোটেলের লিফটের ভিতরে এক অধস্তন মহিলা সহকর্মীর উপর দু’বার যৌন নির্যাতন করেছিলেন তেজপাল। অভিযোগকারিণী বিষয়টি তেহলকার তৎকালীন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শোমা চৌধুরীকে ই-মেল করে জানান। পরে গোয়া পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে এবং তেজপালকে গ্রেফতার করে।

দীর্ঘ বিচারপর্বের পরে ২০২১ সালের মে মাসে দায়রা আদালত তেজপালকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করে গোয়া সরকার। হাইকোর্টের মতে, নিম্ন আদালত প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি এবং যৌন নিপীড়নের শিকার নারীর আচরণ সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। কোনও নির্যাতিতাকে বিশ্বাসযোগ্য বলে গণ্য করার জন্য তাঁকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে আচরণ করতে হবে—এই ‘আদর্শ নির্যাতিতা’র ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করে হাইকোর্ট। আদালত দায়রা আদালতের রায়কে আইনগত ভাবে ‘বিকৃত’ বলে চিহ্নিত করে।

তেজপাল শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হাইকোর্টের রায়ের পরেও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ আদালতে রায়টি চ্যালেঞ্জ করবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ীই তাঁর বর্তমান আবেদন।

এ দিকে গোয়া সরকারও পৃথক ভাবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। তবে তাদের আপত্তি দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়; আপত্তি শাস্তির মাত্রা নিয়ে। রাজ্য সরকারের দাবি, তেজপাল অভিযোগকারিণীর উপর কর্তৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও আস্থার অবস্থানে ছিলেন। অপরাধের গুরুতর প্রকৃতি বিবেচনা করে দশ বছরের পরিবর্তে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া উচিত।

ফলে সুপ্রিম কোর্টের সামনে এখন পরস্পরবিরোধী দু’টি আবেদন—তেজপাল চাইছেন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় ও সাজা বাতিল হোক, আর গোয়া সরকার চাইছে তাঁর সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করা হোক। সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তেই বহুচর্চিত মামলাটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হবে।