দিল্লি জল বোর্ড দুর্নীতি মামলায় সত্যেন্দ্র জৈন ও প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক-সহ গ্রেফতার ৬

যা জানা জরুরি
- দিল্লি জল বোর্ডের নিকাশি শোধনাগার সংক্রান্ত টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করল দিল্লি…
- মঙ্গলবার জৈনের সঙ্গে দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ও আইএএস অফিসার উদিত প্রকাশ রাই-সহ আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- গ্রেফতার হওয়া অন্য চারজন হলেন জল বোর্ডের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এএন এন্টারপ্রাইজ়েসের মালিক নগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক রাজকুমার কুরা…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দিল্লি জল বোর্ডের নিকাশি শোধনাগার সংক্রান্ত টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করল দিল্লি সরকারের দুর্নীতি দমন শাখা। মঙ্গলবার জৈনের সঙ্গে দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ও আইএএস অফিসার উদিত প্রকাশ রাই-সহ আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া অন্য চারজন হলেন জল বোর্ডের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এএন এন্টারপ্রাইজ়েসের মালিক নগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক রাজকুমার কুরা এবং সৃজনহার সংস্থার মালিক পঙ্কজ বর্মা। ২০২৪ সালের ১১ মে দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছিল দুর্নীতি দমন শাখা। দিল্লির একাধিক নিকাশি শোধনাগারের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণের দরপত্রকে কেন্দ্র করেই মামলাটি।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—ইউরোটেক এনভায়রনমেন্টকে সুবিধা পাইয়ে দিতে টেন্ডারের প্রযুক্তিগত শর্ত ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায়। প্রস্তাবিত পরীক্ষামূলক সমীক্ষাও করা হয়নি। পাশাপাশি শোধিত জলের গুণমান নির্ধারণের কয়েকটি প্রয়োজনীয় মাপকাঠি দরপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
দুর্নীতি দমন শাখার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় সৃজনহার এবং এএন এন্টারপ্রাইজ়েসের মতো কয়েকটি সংস্থাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে অর্থ ঘোরানো হয়েছিল। জল বোর্ডের তৎকালীন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক উদিত প্রকাশ রাই ও তাঁর আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক হিসাবে এএন এন্টারপ্রাইজ়েসের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা পৌঁছেছিল। সেই অর্থ স্থাবর সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয় বলেও তদন্তকারীদের অভিযোগ। তবে আদালতে অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত হয়নি।
জৈনের গ্রেফতারির পরেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে আপ। দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দাবি, বিজেপির নির্দেশেই জৈনকে আবার একটি ‘সাজানো মামলায়’ গ্রেফতার করা হয়েছে। আগের মামলাতেও তাঁকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল এবং এই অভিযোগও শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে তাঁর দাবি।
অন্যদিকে, বিজেপি আপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লি বিজেপির নেতাদের বক্তব্য, তদন্তে ঘুষের অর্থের গতিপথ সামনে এসেছে এবং আপ সরকারের কথিত ‘সৎ প্রশাসনের’ প্রকৃত চেহারা প্রকাশ পেয়েছে। জৈনের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে আপ ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



