দেশীয় ও বিদেশি—দুই ক্ষেত্রেই অনুদান কমেছে। তা সত্ত্বেও এক বছরে প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে পিএম কেয়ার্স তহবিলের মোট সঞ্চিত অর্থ দাঁড়িয়েছে ৮,৪৫২ কোটি টাকা। মূলত স্থায়ী আমানত থেকে পাওয়া সুদ, বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থার ফেরত দেওয়া অর্থ এবং অত্যন্ত সামান্য ব্যয়ের কারণেই তহবিলের বহর বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের নিরীক্ষিত হিসাব থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের শেষে পিএম কেয়ার্সে ছিল ৭,১৭৩.০৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ তা বেড়ে হয়েছে ৮,৪৫২.০৭ কোটি টাকা—বৃদ্ধির হার ১৭.৮ শতাংশ। অথচ ওই সময়ের মধ্যে দেশের অভ্যন্তর থেকে পাওয়া অনুদান প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। ২০২৩-২৪ সালে দেশীয় অনুদানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৮১.৮১ কোটি টাকা; পরের অর্থবর্ষে তা কমে দাঁড়ায় ৪৭৯.০৫ কোটি টাকায়। বিদেশি অনুদানও প্রায় ১৮ শতাংশ কমে ১.১৪ কোটি টাকা থেকে নেমে এসেছে প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকায়।

অনুদান কমলেও তহবিলের আয় বাড়িয়েছে ব্যাঙ্কে রাখা বিপুল অঙ্কের অর্থ। অর্থবর্ষের শুরুতে ৬,৬৪১.৫৭ কোটি টাকা স্থায়ী আমানতে রাখা ছিল। তা থেকে এক বছরেই সুদ মিলেছে ৪৬৯.৩৮ কোটি টাকা। সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া সুদ মিলিয়ে মোট সুদ-আয়ের পরিমাণ প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা—যা ওই বছরে পাওয়া নতুন দেশীয় অনুদানের প্রায় সমান।

এ ছাড়া বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থা অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত অর্থ হিসাবে ৩২৪.৬৬ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। আগের অর্থবর্ষে ফেরতের অঙ্ক ছিল ৮৪.৩১ কোটি টাকা। তবে কোন সংস্থা কত টাকা এবং কেন ফেরত দিয়েছে, প্রকাশিত এক পাতার হিসাবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তহবিলের ব্যয় নিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৮৭.৮৫ লক্ষ টাকা। এর প্রায় পুরোটাই ‘পিএম কেয়ার্স ফর চিলড্রেন’ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে; ব্যাঙ্ক ও বার্তা পরিষেবার খরচ মাত্র ৪৫১ টাকা। আগের অর্থবর্ষে শিশুদের প্রকল্পে ১৫.৩৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরে ওই খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ৯৪ শতাংশ। মোট তহবিলের তুলনায় বছরের ব্যয় প্রায় ০.০০১ শতাংশ।

২০২৫ সালের ৩১ মার্চ মোট অর্থের ৭,৮৪৬.৬৫ কোটি টাকা—প্রায় ৯৩ শতাংশ—স্থায়ী আমানতে ছিল। সেভিংস অ্যাকাউন্টে ছিল ৬০৫.৪১ কোটি টাকা। বিপুল অর্থ ব্যাঙ্কে পড়ে থাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার ফেরতের কারণ প্রকাশ না করা এবং ব্যয়ের নগণ্য হার নিয়ে স্বচ্ছতা-কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২০ সালে অতিমারির সময় জরুরি পরিস্থিতি ও বিপর্যয়ে নাগরিকদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে পিএম কেয়ার্স গঠিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী পদাধিকারবলে এই জনহিতকর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। তহবিলটি স্বেচ্ছা অনুদানে চলে এবং কোনও বাজেট বরাদ্দ পায় না।