শাহরুখের ‘স্বদেশ’ দেখে মুগ্ধ অমিতাভ!

যা জানা জরুরি
- শাহরুখ খানের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বক্স অফিসের সাফল্যের অভাব নেই।
- কিন্তু তাঁর এমন কিছু চরিত্র রয়েছে, যেগুলির গুরুত্ব সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে।
- সেই তালিকার প্রথম সারিতেই রয়েছে আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত স্বদেশ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
শাহরুখ খানের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বক্স অফিসের সাফল্যের অভাব নেই। কিন্তু তাঁর এমন কিছু চরিত্র রয়েছে, যেগুলির গুরুত্ব সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে। সেই তালিকার প্রথম সারিতেই রয়েছে আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত স্বদেশ। মুক্তির সময় ছবিটি প্রত্যাশিত ব্যবসা না করলেও পরবর্তী দুই দশকে তা জায়গা করে নিয়েছে আধুনিক হিন্দি সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় ছবি হিসেবে।
এ বার সেই ছবিতে শাহরুখ খানের অভিনয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন অমিতাভ বচ্চন। তাঁর চোখে স্বদেশ-এ শাহরুখের অভিনয় ছিল ‘একেবারে অসাধারণ’। শুধু প্রকাশ্যে প্রশংসা নয়, শাহরুখের সঙ্গে দেখা হলেই নাকি তাঁকে একই কথা বলেন অমিতাভ।
সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-র ১৮তম মরসুমের দ্বিতীয় পর্বে প্রতিযোগী হিসেবে হাজির হয়েছিলেন বাবলু কুমার পণ্ডিত। প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে উঠে আসে শাহরুখের অভিনীত কয়েকটি স্মরণীয় চরিত্রের প্রসঙ্গ।
বাবলুকে প্রশ্ন করা হয়, হিন্দি ছবিতে কোন অভিনেতা কখনও নাসার বিজ্ঞানী, কখনও ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানচালক, আবার কখনও ভারতীয় মহিলা হকি দলের প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন? উত্তর দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি—শাহরুখ খান।
নাসার বিজ্ঞানী মোহন ভার্গব স্বদেশ-এর চরিত্র। ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট বীর-জারা-র সামিরিয়া? Actually, we need not introduce wrong name; শাহরুখ অভিনীত বীর প্রতাপ সিংহ চরিত্রটি ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার নয়? Let’s correct: বীর-জারা-য় তিনি স্কোয়াড্রন লিডার বীর প্রতাপ সিংহ। আর চক দে! ইন্ডিয়া-য় ভারতীয় মহিলা হকি দলের কোচ কবীর খান। উত্তরটি সঠিক ঘোষণা হওয়ার পরই অমিতাভ শুরু করেন শাহরুখের অভিনয় নিয়ে আলোচনা।
বিশেষ করে স্বদেশ-এর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বদেশ নামে তাঁর যে ছবিটি ছিল, আমার মনে হয় সেই ছবিতে তিনি যে অভিনয় করেছিলেন, তা একেবারে উত্তম ছিল। আমাদের যখনই দেখা হয়, আমি তাঁকে এই কথাটাই বলি।”
অমিতাভের এই মন্তব্য দ্রুতই শাহরুখ-অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। কারণ এটি নিছক সহকর্মীর সৌজন্যমূলক প্রশংসা নয়। ভারতীয় সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা যখন শাহরুখের একটি নির্দিষ্ট অভিনয়কে এতটা উঁচুতে রাখছেন, তখন সেই স্বীকৃতির আলাদা গুরুত্ব থাকেই।
২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া স্বদেশ-এ শাহরুখ অভিনয় করেছিলেন মোহন ভার্গবের চরিত্রে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কর্মরত সফল বিজ্ঞানী মোহন ছোটবেলায় তাঁকে লালনপালন করা কাবেরী আম্মাকে আমেরিকায় নিয়ে যেতে ভারতে ফেরেন। কিন্তু নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে এসে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের দারিদ্র্য, জাতপাত, শিক্ষার অভাব, বিদ্যুৎ-সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন তিনি।
সেখান থেকেই বদলাতে থাকে মোহনের ভাবনা। ব্যক্তিগত সাফল্য আর নিজের দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যে যে টানাপোড়েন, ধীরে ধীরে সেটিই হয়ে ওঠে ছবির মূল সুর।
চরিত্রটিও শাহরুখের পরিচিত রোম্যান্টিক নায়ক-ইমেজ থেকে ছিল একেবারেই আলাদা। মোহন ভার্গবের মধ্যে নেই চটকদার সংলাপ, অতিনাটকীয় আবেগ কিংবা নায়কোচিত অ্যাকশন। বরং সংযত শরীরী ভাষা, চোখের অভিব্যক্তি এবং নীরবতার মধ্য দিয়েই চরিত্রটির ভিতরের পরিবর্তনকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন শাহরুখ।
আর সেই কারণেই হয়তো ট্রেনের দৃশ্যটির কথা এত বছর পরেও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। একটি দরিদ্র শিশুর কাছ থেকে জল কেনার সেই মুহূর্তে প্রায় কোনও সংলাপ ছাড়াই মোহনের ভিতরের অস্বস্তি, অপরাধবোধ এবং আত্মোপলব্ধির পরিবর্তনকে তুলে ধরেছিলেন অভিনেতা।
বক্স অফিসে স্বদেশ বড় সাফল্য না পেলেও সময়ের সঙ্গে ছবিটির মর্যাদা বেড়েছে বহুগুণ। দেশপ্রেমকে উচ্চকণ্ঠ স্লোগান বা আবেগের বিস্ফোরণ হিসেবে না দেখিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নিজের দায়িত্ব বোঝা এবং সমাজের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার গল্প হিসেবে তুলে ধরেছিল ছবিটি। শাহরুখের অভিনয়ও তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সংযত ও পরিণত কাজ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
অমিতাভ ও শাহরুখ এর আগে মহব্বতেঁ, কভি খুশি কভি গম, কভি অলবিদা না কহনা এবং ভূতনাথ-এর মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। দীর্ঘ পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি দু’জনেই বিভিন্ন সময়ে একে অপরের কাজের প্রশংসা করেছেন।
শাহরুখের জনপ্রিয় ছবির তালিকা করলে দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, দেবদাস, পাঠান কিংবা জওয়ান-এর মতো ছবির নাম স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসে। কিন্তু অভিনেতা শাহরুখকে বুঝতে গেলে স্বদেশকে পাশ কাটানো কঠিন।
আর অমিতাভ বচ্চনের মুখে সেই ছবির অভিনয়ের এমন অকপট প্রশংসা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—তারকা শাহরুখের ঝলকের আড়ালে যে অভিনেতা লুকিয়ে আছেন, মোহন ভার্গব তাঁর সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রমাণগুলির একটি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



