International

ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে টাকা? উঠল স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তাঁর পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে দেখতে এবার গুনতে হবে মোটা টাকা।
  • নতুন এই পরিষেবা চালু হতেই উঠেছে স্বার্থের সংঘাত, বাজারে অন্যায্য সুবিধা এবং দুর্নীতির অভিযোগ।
  • সমালোচকদের প্রশ্ন—প্রেসিডেন্টের এমন পোস্ট, যা মুহূর্তে বাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই যদি অর্থের বিনিময়ে কিছু বিনিয়োগকারী আগে পেয়ে যান, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তাঁর পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে দেখতে এবার গুনতে হবে মোটা টাকা। নতুন এই পরিষেবা চালু হতেই উঠেছে স্বার্থের সংঘাত, বাজারে অন্যায্য সুবিধা এবং দুর্নীতির অভিযোগ। সমালোচকদের প্রশ্ন—প্রেসিডেন্টের এমন পোস্ট, যা মুহূর্তে বাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই যদি অর্থের বিনিময়ে কিছু বিনিয়োগকারী আগে পেয়ে যান, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কি আদৌ সমান প্রতিযোগিতা থাকে?

ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ‘ট্রুথ এপিআই’ (Truth API) নামে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক পরিষেবা। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সংস্থা, বিশেষ করে ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলি, ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে এবং প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবে। পরিষেবাটির জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হতে পারে।

প্রেসিডেন্টের পোস্ট, আগে ওয়াল স্ট্রিটে?

সংস্থার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কেভিন ম্যাকগার্ন জানিয়েছেন, গ্রাহকদের জন্য প্ল্যাটফর্মের ‘সবচেয়ে বাজার-প্রভাবকারী’ পোস্টগুলির লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েল-টাইম ফিড সরবরাহ করবে এই পরিষেবা।

এক্স-সহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও এ ধরনের তথ্যভিত্তিক পরিষেবা রয়েছে। কিন্তু ট্রুথ সোশ্যালের ক্ষেত্রে ঝুঁকির জায়গাটি আলাদা।

কারণ, এই প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবহারকারী স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, ট্রুথ সোশ্যালের মূল সংস্থার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারও তিনি।

অর্থাৎ, যে ব্যক্তির পোস্ট বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, তিনিই আবার সেই প্ল্যাটফর্মের মালিকানার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আর এখন সেই পোস্ট আগেভাগে দেখার সুযোগ থেকেও অর্থ আসতে পারে।

ট্রাম্পের পোস্টেই বাজারের নড়াচড়া

সংস্থার ঘোষণায় ট্রাম্পের নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ অনুসারী-সমৃদ্ধ তাঁর @realDonaldTrump অ্যাকাউন্টই ট্রুথ সোশ্যালের সবচেয়ে বড় অ্যাকাউন্ট।

ট্রাম্প বহুবার শুল্কনীতি, বিদেশনীতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্ত প্রথমে ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেছেন। পরে সেই খবর অন্য মাধ্যমে ছড়িয়েছে।

ফলে তাঁর একটি পোস্টই কখনও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শুল্কনীতি কিংবা ইরান-সংক্রান্ত মন্তব্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে নতুন হিসাব শুরু হয়ে যেতে পারে।

এই জায়গাতেই নতুন পরিষেবা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।

‘ধনীদের অন্যায্য সুবিধা’

পরিষেবা চালুর কয়েক দিন আগেই ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম শিফ এবং এলিজাবেথ ওয়ারেন মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

এসইসি চেয়ারম্যান পল অ্যাটকিনসকে লেখা চিঠিতে তাঁরা জানতে চেয়েছেন, এই উদ্যোগ আদৌ আইনসঙ্গত কি না।

দুই সেনেটরের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য ব্যবহারের চরম উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে পড়বেন, বাজারের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন ওয়াল স্ট্রিটের ধনী বিনিয়োগকারীরা।

অর্থাৎ, প্রশ্নটা শুধু একটি নতুন সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা নিয়ে নয়—প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ যখন একই জায়গায় এসে মিশছে, তখন সীমারেখাটি কোথায়?

‘ট্রাম্প-সৃষ্ট মন্দা’র আশঙ্কাও ছিল

বাজারে ট্রাম্পের পোস্টের প্রভাব নতুন কিছু নয়।

গত বছর বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় পতনের সময় একদিনেই ট্রুথ সোশ্যালে ১০০টিরও বেশি পোস্ট করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর অর্থনৈতিক নীতিকে ঘিরে তখন ‘ট্রাম্প-সৃষ্ট মন্দা’র আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

বিশেষ করে শুল্ক ঘোষণা কিংবা আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে তাঁর বক্তব্য বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ফলে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের ব্যবধানও কোনও কোনও ট্রেডারের কাছে বড় আর্থিক সুবিধায় পরিণত হতে পারে।

আর এখন সেই সময়ের ব্যবধানেরই মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

শেয়ার পড়েছে, আয় বাড়ছে

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারের দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সংস্থাটির বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কমেছে।

একই সময়ে ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্প নিয়েও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আর্থিক বিবরণী বলছে, গত বছরে ট্রাম্প মিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে তাঁর আয় ১০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার

নতুন পরিষেবার আগে তাই সংস্থার জন্য নতুন আয়ের রাস্তা খোঁজা জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাজারের আগে পোস্ট, সংস্থার নতুন বাজি

‘ট্রুথ এপিআই’ চালুর আগের দিন, শুক্রবার, ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারের দাম ৫.৫ শতাংশ বেড়ে ১০.৩৯ ডলারে পৌঁছেছিল।

এতদিন মূলত বিজ্ঞাপনের আয়ের উপর নির্ভরশীল সংস্থাটি নতুন পরিষেবার মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চাইছে।

কিন্তু ব্যবসায়িক সাফল্যের সেই পরিকল্পনাই এখন রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নের মুখে।

একজন প্রেসিডেন্টের পোস্ট যদি বাজার নাড়িয়ে দিতে পারে, আর সেই পোস্ট কয়েকজন ধনী গ্রাহক সাধারণ মানুষের আগে দেখতে পারেন—তাহলে সেটি কি নিছক প্রযুক্তিগত পরিষেবা, নাকি ক্ষমতা ও অর্থের বিপজ্জনক মেলবন্ধন?

এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে ওয়াশিংটন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles