হরমুজ সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে মোদী

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে ভারতের জ্বালানি, সার এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।
- বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির (সিসিএস) বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রককে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে ভারতের জ্বালানি, সার এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির (সিসিএস) বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রককে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ডিজেল, পেট্রোল, এলপিজি, এলএনজি, ইউরিয়া বা অন্যান্য সারের কোনও ঘাটতি নেই। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও বিকল্প উৎস থেকে আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে আগামী রবি মরশুম পর্যন্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে।
এটি ছিল ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর চতুর্থ বিশেষ সিসিএস বৈঠক। এমন এক সময়ে এই বৈঠক হল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির সম্ভাবনা কার্যত ভেঙে পড়ছে এবং নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রস্তুতির বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল প্রধানমন্ত্রীকে জানান। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় জ্বালানি নিরাপত্তা, সারের সরবরাহ, সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা এবং পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তার ওপর।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক পরামর্শের ব্যবস্থা করা হবে।
রাজ্যসভায় সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জন নাবিক। আহত হয়েছেন আরও ৭৫ জন। এর পাশাপাশি গত জুন মাসে কাতারের একটি গ্যাস প্রকল্পে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণে আরও ১২ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি ভারতীয় বাস করেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে কর্মরত। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি ভি সোমনাথন বৈঠকে জানান, অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত জোগান থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলি ১০০ শতাংশেরও বেশি সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই।
তিনি আরও জানান, এলপিজি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ (পিএনজি) দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। জাতীয় গ্যাস গ্রিড, এলএনজি আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণ পরিকাঠামো, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং নতুন পাইপলাইন নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সৌরশক্তি-সহ নবীকরণযোগ্য এবং জীবাশ্ম জ্বালানিবিহীন শক্তির উৎসের ওপর আরও জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব কমাতে ভারতের শক্তি-স্বনির্ভরতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, রসায়ন ও সারমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি আমদানি, সারের কাঁচামাল এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা। সেই কারণেই কেন্দ্র সরকার এখন থেকেই বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



