বাংলাস্ফিয়ার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফেসবুক রিল সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেটার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে মেটা এবং ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে বৈঠকে ডেকেছে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। এই ঘটনাকে ঘিরে সংস্থাটির ভারতীয় নীতিনির্ধারণী দলের ভূমিকা নিয়েও সরকারের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও অপসারণই নয়, বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠবে। এর মধ্যে রয়েছে ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট (CSAM) নিয়ন্ত্রণে মেটার ভূমিকা, হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচার এবং ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ডিজিটাল বিধি মেনে চলার প্রশ্ন।

ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস. কৃষ্ণন মেটার শীর্ষ নেতৃত্বকে বৈঠকের জন্য ই-মেল পাঠিয়েছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক রিলটি একই দিন পুনরায় চালু করা হয়, ঠিক কতক্ষণ সেটি সরিয়ে রাখা হয়েছিল সে বিষয়ে মেটা কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

মেটার এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে ওই কনটেন্টটি সরিয়ে গিয়েছিল। পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।” সরকারি সূত্রের দাবি, এই ঘটনার জন্য মেটা সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশও করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ভুয়ো খবর, আপত্তিকর কনটেন্ট, শিশুদের নিরাপত্তা এবং দেশের আইন মেনে চলার প্রশ্নে সরকার বারবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে সতর্ক করেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট সরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।

সরকারি মহলের মতে, এত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকার অর্থ হল, মেটার কার্যপদ্ধতি এবং ভারতে তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে কেন্দ্র আর কোনও অস্পষ্টতা রাখতে চাইছে না। বিশেষ করে, সরকারি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট পরিচালনায় সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের ফলাফল শুধু মেটার সঙ্গে সরকারের সম্পর্কেই নয়, ভারতে পরিচালিত অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ভারতীয় আইন মেনে চলার বিষয়ে সরকারের প্রত্যাশা যে আরও কঠোর হচ্ছে, এই ঘটনাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।