Home খবর প্রধানের বিদায়ের পর এবার পাঞ্জাব মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঝড়, বুমেরাং সিসোদিয়ার চ্যালেঞ্জ

প্রধানের বিদায়ের পর এবার পাঞ্জাব মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঝড়, বুমেরাং সিসোদিয়ার চ্যালেঞ্জ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
6 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু এখন পাঞ্জাবের শিক্ষা মন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্স। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তাঁকে চাপে ফেলতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়ার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ, যা শেষ পর্যন্ত উল্টে দলের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর আপ নেতৃত্ব দাবি করেছিল, এবার রাজ্যগুলিতেও শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সেই প্রেক্ষাপটে সিসোদিয়া বিরোধীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ থাকে, তা প্রকাশ করা হোক। কিন্তু সেই মন্তব্যের পরই বিরোধী দলগুলি পাঞ্জাব সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষক নিয়োগ, পরীক্ষা পরিচালনা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

কংগ্রেস, বিজেপি এবং শিরোমণি আকালি দল দাবি করেছে, সিসোদিয়ার মন্তব্যের ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে পাঞ্জাব সরকারের শিক্ষানীতি। তাদের অভিযোগ, স্বচ্ছতার দাবি তুললেও আপ সরকার নিজেই বিভিন্ন অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। ফলে যে রাজনৈতিক আক্রমণ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চালানোর চেষ্টা হয়েছিল, তা এখন পাঞ্জাব সরকারের দিকেই ঘুরে এসেছে।

বিশেষ করে বিরোধীদের বক্তব্য, যদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগকে নৈতিক দায়বদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, তাহলে রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এই যুক্তি সামনে এনে তারা পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও ব্যাখ্যা দাবি করছে।

অন্যদিকে, আপ নেতৃত্ব অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, বিরোধীরা কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরতে পারেনি। বরং শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি স্কুলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করার জন্য সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে। হরজোত সিং বেইন্সও জানিয়েছেন, বিরোধীদের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই এবং প্রয়োজন হলে সমস্ত নথি প্রকাশ করা হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার মূল জায়গা অন্যত্র। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর বিরোধীরা যে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছিল, সেই একই যুক্তি এখন তাদেরই শাসিত রাজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সিসোদিয়ার আত্মবিশ্বাসী চ্যালেঞ্জ কার্যত বিরোধীদের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

আগামী দিনে বিষয়টি শুধু পাঞ্জাবের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় স্তরেও শিক্ষা প্রশাসন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে, আর সেই কারণেই পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles