Table of Contents
মুক্তির আগেই বড় স্বস্তির খবর পেল সানি দেওল অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’। কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ড (CBFC) ছবিটিকে একটিও দৃশ্য বাদ না দিয়েই প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। তবে দেশভাগের বাস্তবতা ও সহিংসতার চিত্রায়ণের কারণে ছবিটিকে দেওয়া হয়েছে ‘এ’ (Adults Only) সার্টিফিকেট।
সোমবার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই সুখবর ভাগ করে নেন সানি দেওল। তিনি লেখেন, “আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ কোনও কাটছাঁট ছাড়াই CBFC-র ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ‘এ’ সার্টিফিকেট অর্জন করেছে। এটি মানবতা ও ভালোবাসার গল্প। ১৪ আগস্ট, দেশভাগ স্মরণ দিবসের প্রেক্ষাপটে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখুন।”
দীর্ঘদিন পর ফিরছে সন্তোষী–সানি জুটি
ছবিটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী। ‘ঘায়েল’, ‘দামিনী’ এবং ‘দ্য লেজেন্ড অব ভগত সিং’-এর মতো প্রশংসিত ছবির নির্মাতা সন্তোষীর সঙ্গে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জুটি বেঁধেছেন সানি দেওল। ফলে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
দেশভাগের ক্ষত আর মানবতার গল্প
‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে। দেশভাগের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু জীবন, সাম্প্রদায়িক হিংসা, পরিবার বিচ্ছেদ এবং মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েনই ছবির মূল বিষয়।
নির্মাতাদের দাবি, এটি শুধু ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের পুনর্নির্মাণ নয়; বিভেদের মাঝেও মানবতা, সহমর্মিতা এবং ভালোবাসার বার্তা তুলে ধরাই ছবির মূল উদ্দেশ্য।
কেন ‘এ’ সার্টিফিকেট?
দেশভাগ, ধর্মীয় সংঘাত বা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তৈরি ছবির ক্ষেত্রে সাধারণত CBFC কিছু কাটছাঁট বা সংশোধনের নির্দেশ দেয়। সেই দিক থেকে একটিও দৃশ্য বাদ না দিয়ে ছবিটিকে ছাড়পত্র দেওয়া নিঃসন্দেহে নির্মাতাদের জন্য বড় স্বস্তির।
তবে বোর্ড ছবিটিকে ‘এ’ সার্টিফিকেট দিয়েছে মূলত দেশভাগের সহিংসতা ও কঠিন বাস্তবতার নির্মোহ উপস্থাপনার কারণে। অর্থাৎ ছবির বিষয়বস্তু প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য বেশি উপযুক্ত বলেই মনে করেছে সেন্সর বোর্ড।
আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’। দেশভাগ স্মরণ দিবসের প্রেক্ষাপটে ছবির মুক্তিকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইতিহাস, আবেগ এবং মানবিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবি দর্শকদের কতটা ছুঁতে পারে, এখন সেদিকেই নজর চলচ্চিত্রপ্রেমীদের।