বাংলাস্ফিয়ার: শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার দু’দিন পর সোমবার প্রথমবার সংসদে এলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সংসদ ভবনে ঢোকার সময় বিজেপি সাংসদদের একাংশ তাঁকে ঘিরে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। তবে একই সময়ে সংসদ ভবনের মকর দ্বারের কাছে বিরোধী সাংসদরা যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ এবং রামমন্দির অনুদান বিতর্কে প্রতিবাদ করছিলেন। প্রধান সেখানে পৌঁছতেই বিরোধী সদস্যরা হইচই ও কটাক্ষে সরব হন। সংসদের বাইরে তৈরি হওয়া সেই উত্তেজনার আবহ দ্রুত লোকসভার ভিতরেও ছড়িয়ে পড়ে।

স্পিকার ওম বিড়লা কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করার ঘোষণা করতেই বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কথিত অত্যাচার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দিতে হবে। স্পিকারের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বিক্ষোভ না থামায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।

অন্যদিকে, অমিত শাহ সংসদের মকর দ্বার এড়িয়ে শার্দুল দ্বার দিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তাঁকে সংসদের ক্যান্টিনে বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করতে দেখা যায়। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না।

অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর ধর্মেন্দ্র প্রধানকে আবারও বিজেপি সাংসদরা ঘিরে শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দফতরে যান এবং প্রায় সাড়ে বারোটা পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। দুপুরে লোকসভার অধিবেশন ফের শুরু হলেও আবারও বিক্ষোভে তা ভেস্তে যায়। প্রবল হট্টগোলের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করেন। তারপর দ্বিতীয়বারের মতো অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।

জয়রাম রমেশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

দিনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধান ও কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশের সাক্ষাৎ। দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ সংসদ ভবন থেকে বেরোনোর সময় মকর দ্বারের কাছে তাঁদের দেখা হয়। রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও দু’জন পরস্পরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

সেই সময় প্রধান অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলের একটি স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বাজপেয়ী সরকারের কাজকর্ম নিয়ে ইন্ডিয়া টুডে-তে জয়রাম রমেশের একটি প্রশংসাসূচক লেখা পড়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে হয়েছিল। পরে সাংসদ হওয়ার পর, তখনকার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জয়রাম রমেশের সঙ্গে দেখা করে নিজের ওডিশা লোকসভা কেন্দ্রের লঙ্কাচাষিদের জন্য উন্নত বিপণন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছিলেন।

স্মৃতিচারণ শেষ হতেই জয়রাম রমেশ হেসে প্রধানের সঙ্গে করমর্দন করে বলেন, “এমন তো হয়েই থাকে…”— যা প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গেই ইঙ্গিত বলে মনে করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, “কিছুই হয়নি। আমি পথের লড়াকু, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের আন্দোলনকারী নই।” এই মন্তব্য করেই তিনি সংসদ ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান। মধ্যাহ্নভোজের পর আর তাঁকে সংসদে দেখা যায়নি।

আবারও অধিবেশন ভেস্তে গেল

দুপুর ২টায় লোকসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। স্পিকার ওম বিড়লা এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের শান্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় অধিবেশন আবার মুলতবি করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়।

মুলতবি ঘোষণার আগে স্পিকার জানান, সরকার ও বিরোধী পক্ষকে তিন ঘণ্টার সময় দেওয়া হচ্ছে যাতে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, এই বিরতির সময় সরকারপক্ষের ফ্লোর ম্যানেজাররা বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করবেন।