বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইতেও দিল্লিতে ছাত্রদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। মুম্বইয়ে এক পুলিশ আধিকারিককে এক ছাত্রকে ভুয়ো মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিতে দেখা যায়। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এক এনসিপি নেতা বলেন, “সিজেপি এবং বিরোধীদের আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্রদের ওপর হামলা। এই দুই বিষয়েই আক্রমণের লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বিজেপি ও ছাত্রদের এই সংঘাতে আমরা কেন নিজেদের জড়াব?”

ছাত্রদের ওপর দমন নিয়ে শরিকদের অস্বস্তি

শিবসেনার মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাটও ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে ছাত্রদের প্রতিবাদ করা কোনও অপরাধ নয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ নিন্দনীয়।”

এনসিপির এক নেতা জানান, “উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। কারণ বিষয়টি কেন্দ্রের অধীন। সিজেপি এবং বিরোধীরা যখন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে, তখন দর্শকের ভূমিকায় থাকাই আমাদের পক্ষে শ্রেয় ছিল।”

এনসিপির প্রবীণ নেতা ও মন্ত্রী ছগন ভুজবল বলেন, “জন্তর মন্তরে ছাত্রদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ সত্যিই বেদনাদায়ক। বিপুল সংখ্যক ছাত্র আন্দোলনে নামলে কখনও কখনও তারা উত্তেজিত হয়ে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতে পারে। পুলিশ তাদের থামাতে পারে, সেটাও তাদের দায়িত্ব। কিন্তু তা করতে গিয়েও সংযম দেখানো উচিত ছিল। গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। এই সমস্যার সমাধান করা প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব।”

মহারাষ্ট্রজুড়ে ছাত্রদের বিক্ষোভ

মুম্বই ছাড়াও নাগপুর, ছত্রপতি সম্ভাজিনগর, পুনে এবং নাসিকে সিজেপির সমর্থনে ছাত্রদের বিক্ষোভ হয়। বিজেপির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেখা গিয়েছে, তার মুখোমুখি হতে চায়নি শিবসেনা বা এনসিপি।

শরিক দলগুলির মধ্যে বিজেপির প্রতি অসন্তোষও তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এমন সংকটের সময়েও বিজেপি সহযোগী দলগুলির সঙ্গে কোনও পরামর্শ করেনি এবং ‘বড়দা’সুলভ মনোভাব দেখিয়েছে।

বিজেপির দাবি, দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়বে না

বিজেপির এক শীর্ষ সূত্রের দাবি, এই ছাত্র আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, “নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কেন্দ্র এবং রাজ্য—উভয় স্তরেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন পাশ হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের হাতে আরও কার্যকর ক্ষমতা আসবে।”

তবে দলেরই আর এক নেতা স্বীকার করেছেন, যোগাযোগের ঘাটতিই এই সংকটের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, “যোগাযোগের অভাব শুধু কেন্দ্রে নয়, মহারাষ্ট্রেও রয়েছে। শুধু ছাত্রদের সঙ্গেই নয়, মন্ত্রিসভা এবং দলের মধ্যেও যথেষ্ট আলোচনা হয় না। এই আন্দোলন থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল—যোগাযোগ ও পরামর্শের গুরুত্ব। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংলাপ এবং মতবিনিময়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”