বাংলাস্ফিয়ার: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের রাজনৈতিক অভিঘাত এবার ছড়িয়ে পড়েছে বিজেপি-শাসিত ওড়িশা ও ছত্তীসগঢ়ে। জাতীয় স্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রধানের বিদায়ের পর বিরোধীরা দুই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলেছে। ফলে রাজ্যগুলির শিক্ষামন্ত্রীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং জবাবদিহির দাবি ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
ওড়িশায় বিরোধী বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং কংগ্রেস রাজ্যের স্কুল ও গণশিক্ষা মন্ত্রী নিত্যানন্দ গন্ডের পদত্যাগ দাবি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন পাঠ্যবইয়ে একাধিক তথ্যগত ও মুদ্রণগত ভুল সামনে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য। ধর্মেন্দ্র প্রধান নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন, তাহলে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীও একই পথ অনুসরণ করুন—এই দাবিতেই সরব হয়েছেন তাঁরা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়কও প্রকাশ্যে বলেছেন, পাঠ্যবইয়ের গুরুতর ভুলের দায় এড়ানো যায় না। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে আপস করা হলে রাজনৈতিক দায়ও নিতে হবে। এই মন্তব্যের পর ওড়িশার রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
ছত্তীসগঢ়েও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার মান—সব ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকার ব্যর্থ। রাজধানী রায়পুর-সহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দল বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিধানসভায় বিষয়টি তোলার প্রস্তুতিও চলছে।
বিরোধীদের বক্তব্য, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ একটি রাজনৈতিক নজির তৈরি করেছে। এর ফলে শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যর্থতার ক্ষেত্রে “নৈতিক দায়” এখন আর শুধু কেন্দ্রের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; রাজ্য সরকারগুলিকেও একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে।
তবে বিজেপি দুই রাজ্যেই বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করেছে। ওড়িশা সরকার জানিয়েছে, পাঠ্যবইয়ের ত্রুটিগুলি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছত্তীসগঢ় সরকারও দাবি করেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চলছে এবং বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এখন বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির শিক্ষানীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। বিরোধীরা এই ইস্যুকে সামনে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে বিজেপি প্রশাসনিক সংশোধন এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আগামী দিনে ওড়িশা ও ছত্তীসগঢ়ে এই বিতর্ক কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে রাজ্য সরকারগুলি কত দ্রুত অভিযোগের সমাধান করতে পারে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে কতটা সফল হয় তার উপর।
4