Table of Contents
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফরসংক্রান্ত গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁসের অভিযোগে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্টকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত। প্রয়োজনে ফৌজদারি তদন্তও হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র দাবি করেছে, ভ্যান্সের সফরসংক্রান্ত তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁসের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি সিক্রেট সার্ভিস।
সংস্থার প্রধান যোগাযোগ আধিকারিক অ্যান্থনি গুলিয়েলমি বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বিভাগের এক সদস্যের বিরুদ্ধে “পরিচালনাগত নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা বিঘ্নিত করার অভিযোগে” প্রশাসনিক তদন্ত চলছে। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তও শুরু হতে পারে।
‘তথ্য ফাঁস বরদাস্ত করা হবে না’
তদন্তটি চালাচ্ছে সিক্রেট সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখা। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তি নেওয়া হবে, নাকি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গুলিয়েলমি বলেন, নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করা হবে না। তবে কোনও আচরণ যদি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দলের সঙ্গে সুরক্ষিত ব্যক্তির পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তা সিক্রেট সার্ভিসের দায়িত্ব ও নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভ্যান্সের ‘শেষ মুহূর্তের’ সফর ঘিরেই বিতর্ক
এই তদন্তের খবর সামনে এল এমন এক সময়ে, যখন জেডি ভ্যান্স ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের মধ্যে তাঁর ঘনঘন শেষ মুহূর্তের সফরসূচি নিয়ে অসন্তোষের খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
এমএস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভ্যান্স কখনও কখনও এমন সব শেষ মুহূর্তের ভ্রমণ পরিকল্পনা করতেন, যা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। এমনই এক ঘটনায় ছেলেকে নিয়ে মেরিন কর্পসের হেলিকপ্টারে গলফ প্রশিক্ষণে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য সেই ক্লাস বাতিল হয়ে যায়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পরই ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা। সিক্রেট সার্ভিস, এফবিআই এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ে, কারণ প্রতিবেদনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল পরিচালনাগত তথ্য উঠে এসেছিল।
গোপন তথ্য ফাঁসে কড়া বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের
ট্রাম্প প্রশাসন আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে সংবেদনশীল সরকারি তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্যান্সের সফরসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে শুরু হওয়া এই তদন্ত সেই কঠোর নীতিরই বাস্তব প্রয়োগ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর, তদন্ত শেষে ওই এজেন্টের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ফাঁস হওয়া তথ্যের পরিমাণই বা কতটা ছিল।