Home খবরআন্তর্জাতিক এইচ-১বি ভিসায় এক লক্ষ ডলারের ফি কার্যকর নয়, ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা মার্কিন আদালতে

এইচ-১বি ভিসায় এক লক্ষ ডলারের ফি কার্যকর নয়, ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা মার্কিন আদালতে

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
9 views 3 minutes read
A+A-
Reset
বাংলাস্ফিয়ার: যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এক লক্ষ মার্কিন ডলার ফি আরোপের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবে ফের আইনি ধাক্কা লাগল। মার্কিন আপিল আদালত ওই ফি পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আপাতত এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারীদের উপর এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপছে না। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন আদালতের বিচারপতি লিও সোরোকিন রায়ে বলেন, “কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এইচ-১বি ভিসা আবেদনের উপর কর আরোপ করা হয়েছে। তাই এই নীতি আইনি ভিত্তিহীন।”  

এইচ-১বি ভিসা কী?

এইচ-১বি ভিসা এমন বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য, যাঁদের প্রয়োজন হয় এমন সব ক্ষেত্রে যেখানে মার্কিন সংস্থাগুলি উপযুক্ত মার্কিন কর্মী খুঁজে পায় না। প্রতি বছর এই কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য আরও ২০ হাজার অতিরিক্ত ভিসার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচিত আবেদনকারীরা সাধারণত তিন থেকে ছয় বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পান। এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)।  
 

কত ছিল আগের ফি?

ট্রাম্পের প্রস্তাবের আগে কোনও সংস্থা এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করতে চাইলে সরকারি ফি বাবদ সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দিতে হত। বিভিন্ন শর্তের উপর এই অঙ্ক নির্ভর করত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আবেদনকারীদের জন্য এই ফি এক লাফে এক লক্ষ ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রাম্পের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করে অনেক সংস্থা কম মজুরির বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে, যার ফলে মার্কিন কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।  
 

কারা এই ফি থেকে মুক্ত থাকতেন?

প্রস্তাবিত এক লক্ষ ডলারের ফি যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ছাত্র ভিসায় থাকা বিদেশিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হত না। অথচ প্রতিবছর নতুন এইচ-১বি ভিসাপ্রাপকদের একটি বড় অংশই এই ছাত্র ভিসা থেকে এইচ-১বি ভিসায় পরিবর্তিত হন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল ফি ঘোষণার পর থেকেই নতুন এইচ-১বি আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত খুব অল্প সংখ্যক আবেদনকারীই এই ফি জমা দিয়েছিলেন।  
 

আদালতের রায়কে স্বাগত

ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল আন্দ্রেয়া জয় ক্যাম্পবেল আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের উপর নির্ভরশীল সংস্থাগুলির জন্য স্বস্তির। তিনি বলেন, “এই রায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসা গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচির কার্যকারিতা বজায় রাখবে।” ক্যাম্পবেলের মতে, এর ফলে ম্যাসাচুসেটসের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি বিশ্বমানের অধ্যাপক ও গবেষক নিয়োগের সুযোগ বজায় রাখতে পারবে। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী এবং মার্কিন সংস্থাগুলির জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় অংশই ভারতীয়দের দখলে থাকে। আপাতত আদালতের এই সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত এক লক্ষ ডলারের ফি থেকে স্বস্তি মিলল সম্ভাব্য আবেদনকারী ও তাঁদের নিয়োগকারী সংস্থাগুলির।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles