বাংলাস্ফিয়ার: যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক তরুণীকে ভেন্টিলেটর থেকে সরানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতাল জানিয়েছে, ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি এখনও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তেই চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, আহত তরুণীর শ্বাস-প্রশ্বাস এখন স্বাভাবিকভাবে চলছে। তাঁর স্নায়বিক অবস্থারও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও তিনি এখনও সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত নন এবং পরবর্তী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিকিৎসকেরা মনে করছেন।

গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষে বহু ছাত্র-ছাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েক জনকে গুরুতর অবস্থায় আরএমএল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই তরুণী তাঁদেরই একজন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল।

হাসপাতালের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তাঁর রক্তচাপ, অক্সিজেনের মাত্রা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সূচক এখন স্থিতিশীল। সংক্রমণ বা নতুন কোনও জটিলতার লক্ষণও আপাতত দেখা যায়নি। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তরের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আহতদের চিকিৎসা নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে, আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ করতে হয়।

আহত ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য-বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুতর আহতদের প্রত্যেকের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পৃথক দল গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিউরোসার্জারি, ট্রমা ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চিকিৎসা চলছে।

আন্দোলনকারী সংগঠন এবং আহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আহতদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। হাসপাতাল সূত্রের বক্তব্য, চিকিৎসার অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও আহত তরুণীর সুস্থ হয়ে উঠতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।