বাংলাস্ফিয়ার: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র-যুব আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, লখনউ, চণ্ডীগড়—একাধিক শহরে বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ, মিছিল, অবস্থান এবং গণসমাবেশ হয়। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়; এটি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ও ন্যায্য অধিকারের প্রশ্ন।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম স্লোগান ছিল—“এটি সিজেপি বা বিজেপির লড়াই নয়, এটি ছাত্রদের অধিকারের লড়াই।” আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন, দায়ীদের দ্রুত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
দিল্লির যন্তর-মন্তর এবং সংসদ চত্বর সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বহু জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। কয়েকটি ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া মিছিল এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করায় বহুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের অনেককেই ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কলকাতায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ চত্বর থেকে মিছিল বের করে। তারা অভিযোগ করে, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বারবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায় মুম্বই, পুনে, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, ভুবনেশ্বর, পাটনা এবং জয়পুরেও।
আন্দোলনের সমর্থনে বহু শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষও পথে নামেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ কেবল একটি পরীক্ষাকে নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর সংস্কার জরুরি।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, ছাত্রদের ভবিষ্যতের জন্য আন্দোলন করছি। সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনে, তাহলে আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল হবে।”
অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রণয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার কথাও সরকার জানিয়েছে। তবে বিরোধী দল এবং আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু ভবিষ্যতের আশ্বাস নয়, বর্তমান ঘটনার জন্যও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদের ভেতরেও এই ইস্যুতে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি তুলেছে। সরকার আলোচনায় রাজি হলেও পদত্যাগের দাবি মানতে নারাজ। ফলে সংসদের অচলাবস্থার পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র সংগঠনগুলি জানিয়েছে, আগামী দিনেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ, গণস্বাক্ষর অভিযান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচি চলবে। তাঁদের দাবি, শিক্ষা কোনও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়; এটি দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। সেই কারণেই তাঁরা বারবার বলছেন—“এটি সিজেপি বনাম বিজেপির লড়াই নয়, এটি ছাত্রদের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন।”