বাংলাস্ফিয়ার: সিজেপির (CJP) সংসদ অভিযানের সময় রাজধানীতে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং স্পেশাল সেল যৌথভাবে ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য উস্কানি, ডিজিটাল প্রচার এবং বিশেষ করে পাকিস্তান-ভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখবে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক ধারণা, সংঘর্ষের আগে ও পরে একাধিক বিদেশি, বিশেষত পাকিস্তান-ভিত্তিক এক্স (সাবেক টুইটার), টেলিগ্রাম এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য, উত্তেজনামূলক পোস্ট এবং ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, অথবা সংঘর্ষকে আন্তর্জাতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের সংঘর্ষ নয়, এর সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক, বিদেশি হ্যান্ডেলের সমন্বিত প্রচার এবং ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য সাইবার বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে।
স্পেশাল সেল বিশেষভাবে নজর দেবে বিদেশি হ্যান্ডেলগুলির সঙ্গে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক বা ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল কি না। অন্যদিকে ক্রাইম ব্রাঞ্চ বিশ্লেষণ করবে সংঘর্ষের সময়কার ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কনটেন্ট।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই কয়েকশো ভিডিও, লাইভ স্ট্রিম এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সংগ্রহ করেছেন। এগুলির ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখা হবে কোন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম পোস্টগুলি ছড়িয়েছে, কীভাবে তা ভাইরাল হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনও সমন্বিত প্রচারের যোগ রয়েছে কি না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে বিদেশি যোগাযোগ বা সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপের প্রমাণ খোঁজা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সহায়তাও নেওয়া হবে।
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তান-ভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলির ভূমিকা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি পুলিশ। ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের পরেই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব হবে বলে তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
সিজেপি মিছিল ঘিরে রাজধানীতে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তার নেপথ্যে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রভাব বা সমন্বিত তথ্যযুদ্ধের কোনও উপাদান ছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।