বাংলাস্ফিয়ার: নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরকে কেন্দ্র করে চলা বিক্ষোভের আবহে কেন্দ্রীয় সরকার ওই এলাকার ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে টেলিকম সংস্থাগুলি ৪জি, ৫জি-সহ সমস্ত ধরনের মোবাইল ডেটা পরিষেবা স্থগিত করে।
সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা বজায় রাখা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধে উস্কানি রোধের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেলিকম আইন, ২০২৩ এবং টেলিকম পরিষেবা সাময়িক স্থগিতকরণ বিধি, ২০২৪-এর আওতায় এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
যন্তর-মন্তরে কয়েক দিন ধরেই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলন ঘিরে ইতিমধ্যেই দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। কনট প্লেস-সহ আশপাশের বহু দোকানে ইউপিআই ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত হয়েছে। অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি পরিষেবাও সমস্যায় পড়েছে, কারণ চালকরা নতুন বুকিং পাচ্ছেন না। ছোট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, নগদহীন লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এর আগে আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, পাথর ছোড়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলির একাংশ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, এমন ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত পরিস্থিতিতেই নেওয়া উচিত এবং এর যথাযথ কারণ ও সরকারি আদেশ প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। তবে সরকার এখনও এ বিষয়ে পৃথকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আন্দোলনকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ বা নিরাপত্তা কড়াকড়ি সত্ত্বেও তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।