হাইলাইটস
- সাধারণ পাটের ব্যাগে লুকিয়ে চলত আগ্নেয়াস্ত্রের আন্তঃরাজ্য পাচার।
- তদন্তে উঠে এসেছে এক মহিলার নাম—গোয়েন্দাদের কাছে ‘রিভলভার রানি’।
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ।
- উদ্ধার হয়েছে পিস্তল, রিভলভার, ম্যাগাজিন ও বিপুল কার্তুজ।
দেখতে সাধারণ পাটের ব্যাগ। কিন্তু তার ভিতরেই লুকিয়ে থাকত পিস্তল, রিভলভার, ম্যাগাজিন আর কার্তুজ। এমনই অভিনব কৌশলে রাজ্যের পর রাজ্যে অস্ত্র পাচার করছিল একটি আন্তঃরাজ্য চক্র। আর সেই নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তদন্তকারীদের নজরে এসেছেন এক মহিলা—যাঁকে তাঁরা বলছেন ‘রিভলভার রানি’।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে নজরদারি, ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং একাধিক অভিযানের পর এই অস্ত্রচক্রের হদিস মেলে। বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা একই ধরনের ফোন নম্বর, যোগাযোগের ধরন এবং যাতায়াতের রুটের সন্ধান পান।
তদন্তকারীদের দাবি, অস্ত্র পাচারে বড় ভূমিকা ছিল ওই মহিলার। তিনি শুধু বাহক নন, বরং কোথায় অস্ত্র পৌঁছবে, কোন পথে চালান যাবে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে—এসবের সমন্বয়ও করতেন বলে অভিযোগ।
চক্রটির কৌশল ছিল বেশ সরল, কিন্তু কার্যকর। দামি ব্যাগ বা বিশেষ বাক্সের বদলে ব্যবহার করা হতো সাধারণ পাটের ব্যাগ। ছোট ছোট চালানে বাস, ট্রেন বা সড়কপথে অস্ত্র পাঠানো হতো, যাতে সন্দেহ কম হয় এবং কোনও একজন ধরা পড়লেও গোটা নেটওয়ার্কের হদিস না মেলে।
অভিযানে ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজ। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তুলনায় চক্রটির প্রকৃত পরিধি আরও বড়। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি আরও কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফোনের তথ্য, ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং যাতায়াতের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নেটওয়ার্কের মানচিত্র তৈরি করছেন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সন্ধান চলছে।
গোয়েন্দাদের মতে, ‘রিভলভার রানি’র গ্রেফতারি হয়তো কেবল শুরু। পাটের ব্যাগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই অস্ত্রচক্রের শিকড় কত দূর ছড়িয়ে, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে তদন্তকারীরা।