হাইলাইটস
- NEET-UG ২০২৬ পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নম্বর নিয়ে ক্ষোভ।
- বহু পরীক্ষার্থীর দাবি, প্রত্যাশার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম নম্বর এসেছে।
- সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস NTA-র।
- ভুয়ো বা AI-তৈরি OMR জমা দিলে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।
- কাউন্সেলিংয়ের আগে বাড়ছে ফল প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।
NEET-UG ২০২৬ পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফের বিতর্কের মুখে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, নিজেদের হিসাব অনুযায়ী ৬০০-র বেশি নম্বর পাওয়ার কথা থাকলেও প্রকাশিত ফলাফলে এসেছে অস্বাভাবিকভাবে কম নম্বর। কেউ দাবি করেছেন, যেখানে ৬৪০ নম্বরের আশা করেছিলেন, সেখানে ফলাফলে দেখা গিয়েছে মাত্র ৩৮।
সামাজিক মাধ্যমে এই অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে NTA। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি মূল্যায়ন বা অন্য কোনও প্রকৃত ত্রুটি থেকে থাকে, তবে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তার তদন্ত করা হবে।
গত ১৬ জুলাই গভীর রাতে NEET-UG ২০২৬ পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ২১ জুন অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ পরীক্ষার্থী যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই ফলের ভিত্তিতেই দেশের MBBS, BDS, AYUSH এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিজ্ঞানভিত্তিক স্নাতক কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া এগোবে।
ফল প্রকাশের পর বহু পরীক্ষার্থী দাবি করেন, নিজেদের OMR শিট মিলিয়ে যে নম্বর পেয়েছিলেন, সরকারি ফলাফলের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে OMR-এর কপি এবং সম্ভাব্য নম্বরের হিসাব প্রকাশ করে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কিছু পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, সঠিক উত্তর চিহ্নিত থাকা সত্ত্বেও নম্বর কাটা হয়েছে। আবার কেউ প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা তথ্য আপলোডের ভুলের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিতর্ক বাড়তেই NTA স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযোগগুলির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে। তবে একইসঙ্গে সংস্থা কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছে। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে সম্পাদিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো OMR শিট ছড়ানো হচ্ছে। এই ধরনের নথি জমা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কিছু অভিযোগ ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অভিযোগের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার্থীদের আস্থা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই NEET পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়ন পদ্ধতি, পুনঃপরীক্ষা এবং ফল প্রকাশকে ঘিরে বিতর্কের মুখে পড়েছে। ফলে এবারের ফলাফল নিয়ে নতুন অভিযোগ NTA-র উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
বর্তমানে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন জানানোর পরামর্শ দিয়েছে NTA। সংস্থার আশ্বাস, জমা পড়া নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি।
কাউন্সেলিং শুরুর আগে এই বিতর্ক মিটবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে। দ্রুত সমাধান না হলে চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়াতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।