Home খবর ফ্যারাজ বনাম মিডিয়া, ভাঙছে কি ডানপন্থী জোট?

ফ্যারাজ বনাম মিডিয়া, ভাঙছে কি ডানপন্থী জোট?

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
25 views 7 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • টাইমস-এর সম্পাদক টনি গ্যালাঘারের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন নাইজেল ফ্যারাজ।
  • পরিবারের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ ফ্যারাজের।
  • টাইমস, দ্য সান, ডেইলি টেলিগ্রাফডেইলি মেল-এ রিফর্ম ইউকে-কে নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন বেড়েছে।
  • রুপার্ট মারডকের সংবাদগোষ্ঠীর সঙ্গে ফ্যারাজের সম্পর্কেও স্পষ্ট টানাপোড়েন।
  • বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম এখনও পুরোপুরি কনজারভেটিভদের ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-র পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত নয়।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতে নাইজেল ফ্যারাজ নতুন নন। তবে এবার তাঁর ক্ষোভের লক্ষ্য দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য টাইমস। পত্রিকাটির সম্পাদক টনি গ্যালাঘার-এর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুধু আলোচনার জন্ম দেয়নি, বরং নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—রিফর্ম ইউকে কি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমের সমর্থন হারাতে শুরু করেছে?

বিতর্কের সূত্রপাত টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনকে ঘিরে। সেখানে ফ্যারাজের একাধিক বাড়ি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছিল। ফ্যারাজের অভিযোগ, প্রতিবেদনে এমন একটি বাড়ির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে তাঁর এক সন্তানের বসবাস। তাঁর দাবি, এতে পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সম্পাদক টনি গ্যালাঘারের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই কথোপকথনে ফ্যারাজ অশালীন ভাষাও ব্যবহার করেছিলেন।

সমর্থনের সুর বদলাচ্ছে?

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ব্রিটেনের একাধিক প্রভাবশালী রক্ষণশীল সংবাদপত্র রিফর্ম ইউকে-র প্রতি আগের তুলনায় অনেক বেশি সমালোচনামূলক অবস্থান নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে দলের হতাশাজনক ফল, ফ্যারাজের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন এবং তাঁর রাজনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভাষা বদলাতে শুরু করেছে।

গত কয়েক সপ্তাহে দ্য টাইমস, দ্য সান, ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং ডেইলি মেল—সব ক’টিতেই রিফর্ম ইউকে-কে নিয়ে একের পর এক সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ডেইলি টেলিগ্রাফ ফ্যারাজের ক্ল্যাকটনে উপনির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্তকে “গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জুয়া” এবং “প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছে।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক মন্তব্য করেছেন, “কনজারভেটিভ পার্টি গম্ভীর মানুষের দল, ব্যর্থ রাজনীতিকদের অবসর নিবাস নয়।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মন্তব্যটি রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দেওয়া প্রাক্তন টোরি নেতাদের উদ্দেশেই করা।

এক বছরেই বদলে গেল সমীকরণ

পরিস্থিতি কিন্তু বছরখানেক আগেও সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।

তখন ফ্যারাজ সক্রিয়ভাবে রুপার্ট মারডক-এর নিউজ ইউকে গোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ে উদ্যোগী ছিলেন। দ্য সান-এর সম্পাদক ভিক্টোরিয়া নিউটন-এর সঙ্গে বৈঠক ও নৈশভোজ করেছিলেন তিনি। এমনকি রিফর্ম ইউকে-র “Britain is Broken” স্লোগানও দ্য সান-এর প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছিল।

কিন্তু সেই উষ্ণ সম্পর্ক এখন স্পষ্টতই শীতল।

দ্য সান-এর বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ভাষ্যকার ট্রেভর কাভানাঘ লিখেছেন, “আমরা এমন একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের সংকট দেখছি, যা ইউকিপ থেকে ব্রেক্সিট পার্টি হয়ে আজ রিফর্ম ইউকে-তে এসে দাঁড়িয়েছে। মূল সংকটটি নাইজেল ফ্যারাজের রাজনৈতিক প্রকল্পের।”

নিরাপত্তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

রিফর্ম ইউকে-র নেতাদের দাবি, প্রকাশিত ছবিটি ফ্যারাজের পরিবারের নিরাপত্তাকে বাস্তব ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

তবে টাইমস-এর মুখপাত্র এই অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, ছবিটি থেকে কোনও সম্পত্তির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব নয় এবং এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়নি।

এদিকে জানা গেছে, নিউজ ইউকে-র এক শীর্ষ কর্মকর্তা ফ্যারাজের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও অবনতি না ঘটে।

ট্রাম্পের পথেই ফ্যারাজ?

সম্প্রতি ফ্যারাজ লেভেসন তদন্ত কমিশন-এর প্রসঙ্গ তুলে সংবাদমাধ্যমের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই অবস্থান রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মন্তব্য করেন, ফ্যারাজ এখন মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সমর্থন পাওয়ার চেয়ে নিজের সমর্থকদের আরও সংগঠিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তাঁর ভাষায়, “এটি অনেকটাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলের মতো—সংবাদমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরে নিজের সমর্থকদের আরও ঐক্যবদ্ধ করা।”

রিফর্ম ইউকে-র বক্তব্য

রিফর্ম ইউকে অবশ্য এই পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে না।

দলের এক নেতার কথায়, “ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম কখনও স্থায়ী বন্ধু নয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে তাদের অবস্থানও বদলে যায়।”

অন্যদিকে ডেইলি এক্সপ্রেস এখনও ফ্যারাজের প্রতি তুলনামূলক সহানুভূতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছে। সানডে টাইমস-এ তাঁর অর্থায়ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফ্যারাজ এই পত্রিকাকেই সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেন, তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন এবং “প্রতিষ্ঠানপন্থী শক্তি রিফর্ম ইউকে-কে থামাতে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে।”

বড় প্রশ্ন

গোল্ডস্মিথস বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ডেস ফ্রিডম্যান-এর মতে, ব্রিটেনের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কনজারভেটিভ পার্টির ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত গভীর। তাই তারা এখনও পুরোপুরি রিফর্ম ইউকে-র পক্ষে অবস্থান নিতে প্রস্তুত নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে, তবে ব্রিটেনের জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছানোর রিফর্ম ইউকে-র স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেতে পারে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles