Home খবর উত্তরবঙ্গে শাহর কড়া বার্তা, সীমান্তে কোনও ঢিলেমি নয়

উত্তরবঙ্গে শাহর কড়া বার্তা, সীমান্তে কোনও ঢিলেমি নয়

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
11 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা করলেন অমিত শাহ
  • ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট’ নীতিতে আরও জোর, অনুপ্রবেশ রুখতে স্মার্ট নজরদারির পরিকল্পনা
  • বিএসএফের ৭৭ কোটি টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন
  • পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম চালু হবে ‘স্মার্ট বর্ডার’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

তিন দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষ দিনে উত্তরবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, জাল নথির মাধ্যমে অবৈধ বসবাস এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় কেন্দ্রের ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট’ (সনাক্ত করে বহিষ্কার) নীতির বাস্তবায়নই ছিল এই সফরের অন্যতম প্রধান বার্তা।

শাহ উত্তরবঙ্গের ঝুমাগাছ সীমান্ত চৌকিতে বিএসএফের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের অবস্থা, নজরদারি প্রযুক্তি, ড্রোন, সেন্সর, নাইট-ভিশন ব্যবস্থা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা অবকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনি সীমান্তের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন।

সফরকালে ৭৭ কোটি টাকার বিএসএফ পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে নতুন ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সীমান্তরক্ষীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্পগুলি সীমান্ত পাহারাকে আরও কার্যকর করবে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াবে।

অমিত শাহ জানান, দেশের সীমান্তকে আরও দুর্ভেদ্য করতে কেন্দ্র ‘স্মার্ট বর্ডার’ ধারণা বাস্তবায়ন করছে। চারস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা কাঠামো বা ‘কোয়াড্র্যাঙ্গুলার সিকিউরিটি গ্রিড’-এর মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালু হবে। এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় পশ্চিমবঙ্গ থেকেই শুরু হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, সেন্সর, ক্যামেরা এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।

কেন্দ্রের সাম্প্রতিক ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট’ নীতির প্রেক্ষাপটেও শাহর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করা, জাল পরিচয়পত্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বহিষ্কারের ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের দাবি, সীমান্তে চোরাচালান, মানবপাচার, জাল মুদ্রা, মাদক এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সীমান্তের দুর্বল অংশগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এই সফরে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়েও পর্যালোচনা করেন শাহ। রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গ সফরের মাধ্যমে অমিত শাহ একদিকে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তাকে কেন্দ্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন, তেমনই অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ‘সনাক্ত ও বহিষ্কার’ নীতির বাস্তবায়নে কেন্দ্র যে আরও সক্রিয় হতে চলেছে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিএসএফের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন পর্যায়ের সূচনা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles