হাইলাইটস:
- ২০১৬ সালে সারোগেসির মাধ্যমে ছেলে লক্ষ্যর বাবা হন তুষার কাপুর
- অভিনেতার দাবি, বাবা হওয়ার পরই বদলে যায় জীবনের অগ্রাধিকার
- “বক্স অফিস নয়, অন্য একজন মানুষের জন্য বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি”— তুষার
মুম্বই: বলিউডে দীর্ঘ কেরিয়ার, একের পর এক সিনেমা, জনপ্রিয়তা— সবকিছুর পরও তুষার কাপুরের কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনও ছবির সাফল্য নয়। তাঁর কথায়, বাবা হওয়াই তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
২০১৬ সালে আইভিএফ ও সারোগেসির মাধ্যমে ছেলে লক্ষ্য (Laksshya)-র বাবা হন তুষার। একক অভিভাবক হিসেবে ছেলেকে বড় করার সিদ্ধান্ত সেই সময় বলিউডে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আজও অভিনেতার দাবি, সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনকে সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তুষার বলেন, বাবা হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিত্বে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাঁর ভাষায়, “বাবা হওয়াই আমাকে বদলে দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই আমাকে আরও স্থির করেছে। জীবনের সমস্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যেও শান্ত থাকতে শিখিয়েছে।”
অভিনেতার মতে, সন্তান জন্মের পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে জীবন শুধু সিনেমা, বক্স অফিস কিংবা সাফল্যের হিসেবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “এখন বুঝি, জীবনে সিনেমার বাইরেও অনেক কিছু আছে। কত ছবি করছি, বক্স অফিসে কত আয় হল বা কী রিভিউ পেলাম— সেগুলোই সব নয়। আসল বিষয় হল অন্য একজন মানুষের জন্য বেঁচে থাকা।”
তুষারের কথায়, বাবা হওয়ার পর তাঁর জীবনের অগ্রাধিকারও সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আগে কাজই ছিল জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, এখন ছেলের বেড়ে ওঠা, তার সুখ, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎই তাঁর সবচেয়ে বড় ভাবনা।
২০১৬ সালে সারোগেসির মাধ্যমে একক পিতৃত্ব গ্রহণ করে তুষার কাপুর এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সেই সময় বলিউডে এমন সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত বিরল। এরপর থেকে তিনি ব্যক্তিগত জীবনকে অনেকটাই আড়ালে রেখেছেন এবং বেশিরভাগ সময়ই ছেলেকে ঘিরেই নিজের পৃথিবী গড়ে তুলেছেন।
তুষারের এই মন্তব্য আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, পেশাগত সাফল্য যত বড়ই হোক না কেন, অনেকের কাছেই জীবনের প্রকৃত পরিতৃপ্তি আসে পরিবার ও প্রিয়জনের মধ্যে। আর তুষার কাপুরের কাছে সেই পরিচয় একটাই— তিনি প্রথমে একজন বাবা, তারপর একজন অভিনেতা।