হাইলাইটস:

  • শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইঙ্গিতকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
  • প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দাবি, দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে হাসিনাকে।
  • তাঁর বক্তব্য, জনগণ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চায়।
  • হাসিনা সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলতি বছরের শেষের দিকেই বাংলাদেশে ফিরতে পারেন।
  • এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত।

বাংলাস্ফিয়ার: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসিনা যদি দেশে ফিরতে চান, সরকার তাঁকে স্বাগত জানাবে। তবে সেই স্বাগত কোনও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য নয়, বরং আদালতের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চাইলে আমরা তা স্বাগত জানাই। বিশ্বের সেরা আইনজীবীদেরও সঙ্গে আনতে পারেন। আইনের সমস্ত সুযোগ তাঁকে দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।”

জাহেদের দাবি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগে বিচার হয়েছে, তাতে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। তাঁর কথায়, “দেশের মানুষ চান, তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক এবং সেই সাজা কার্যকর হোক।”

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি চলতি বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের এই প্রতিক্রিয়া সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। সরকারপক্ষের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধীদের দমন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধে তিনি জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে হাসিনার সমর্থকদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসার ফল।

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একদিকে যদি তিনি দেশে ফেরেন, তবে বিচার ও রাজনৈতিক সংঘাত—দুই-ই নতুন মাত্রা পেতে পারে। অন্যদিকে তিনি যদি দেশে না ফেরেন, তবে তাঁর অনুপস্থিতিতেই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চলবে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক সমঝোতার সুযোগ হিসেবে নয়, বরং বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখাতে চাইছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে হাসিনা সত্যিই দেশে ফেরেন কি না, এবং ফিরলে কী আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার।