হাইলাইটস:
- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ।
- ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, একটি জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে।
- একটি জাহাজে সামান্য কাঠামোগত ক্ষতি, অন্যটিতে আগুন লাগে।
- কোনও হামলাতেই প্রাণহানি বা তেল ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের খবর নেই।
- কাতারের দাবি, তাদের একটি জাহাজে হামলার জন্য দায়ী ইরান।
- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ।
বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের বাড়ল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি তেলবাহী জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। এরই মধ্যে কাতার অভিযোগ করেছে, তাদের একটি জাহাজে হামলার জন্য ইরান দায়ী।
মঙ্গলবার ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় একটি তেলবাহী জাহাজকে একটি মানববিহীন উড়ন্ত যানের (ড্রোন) মাধ্যমে আঘাত করা হয়। হামলায় জাহাজটির গায়ে সামান্য কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনও নাবিক আহত হননি এবং সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেনি।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জাহাজ চলাচলকারী সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দিনে ইউকেএমটিও আরও দুটি পৃথক হামলার খবর দেয়। ওমান উপকূলের কাছে চলাচলরত দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্য জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়। যদিও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তিনটি ঘটনাতেই কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতিরও কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণ সংস্থাগুলির উদ্বেগ বেড়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কাতার সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তাদের একটি জাহাজে হামলার পেছনে তেহরানের হাত রয়েছে। যদিও ইরান এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে রফতানি হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক বা নিরাপত্তাজনিত যে কোনও উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পর বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির নৌবাহিনীও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা যদি অব্যাহত থাকে, তবে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বিমা ব্যয় এবং পণ্য পরিবহণের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।