হাইলাইটস:

  • প্রয়াত আলি খামেনেইর শেষকৃত্যের একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেইকে।
  • উপস্থিত ছিলেন আলি খামেনেইর তিন ছেলে—মাসউদ, মেইসাম ও মোস্তফা; অনুপস্থিত ছিলেন শুধু মোজতবা।
  • ইরানি সূত্রের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে জনসমক্ষে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
  • তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

খামেনেইর শেষযাত্রায় বড় প্রশ্ন—মোজতবা কোথায়?

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই কোথায়?

সোমবার তেহরানে শেষযাত্রার বিশাল শোভাযাত্রা শুরু হলেও মোজতবার দেখা মেলেনি। শনিবার থেকে শুরু হওয়া শোকানুষ্ঠান এবং রবিবারের বিশেষ নামাজেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। অথচ তাঁর তিন ভাই—মাসউদ, মেইসাম ও মোস্তফা—প্রকাশ্যে উপস্থিত থেকে পিতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

নিরাপত্তাই কি একমাত্র কারণ?

ইরানের সরকারি বা আধা-সরকারি মহল থেকে মোজতবার অনুপস্থিতির কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল এবং একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজরায়েলের সম্ভাব্য হামলা বা হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় তাঁকে জনসমক্ষে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনও দাবি করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাঁকে শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেয়নি।

ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতোল্লাহ হাকিম এলাহিও জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবার প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

শারীরিক অবস্থা নিয়েও জল্পনা

নিরাপত্তার পাশাপাশি মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে আলি খামেনেই নিহত হওয়ার সময় হওয়া হামলায় মোজতবাও আহত হয়েছিলেন। যদিও ইরান সরকার তাঁর বর্তমান স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির ফলে প্রশ্ন উঠছে—তিনি আদৌ নিয়মিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন কি না, নাকি দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশ আপাতত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা পালন করছে।

উত্তরসূরি হলেও জনসমক্ষে নেই

মোজতবা খামেনেইকে আলি খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁকে কার্যত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও তাঁর এই অদৃশ্য উপস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এখনও উত্তেজনা প্রশমিত না হওয়ায় নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে প্রকাশ্যে আনতে চায় না ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, কেবল নিরাপত্তা নয়, তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এবং বাস্তব ক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

শেষকৃত্য ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

আলি খামেনেইর শেষকৃত্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছেন। ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও গোটা অনুষ্ঠানজুড়ে নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীন। শেষ পর্যন্ত ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মোজতবা সেই দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়েও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।