3
Table of Contents
পটভূমি: একটি বিল, দুটি গল্প
এপ্রিল ২০২৬-এর মাঝামাঝি। সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকার পেশ করল ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পাশাপাশি এই বিলে যুক্ত হয়েছিল আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও। বিলটি পাশ হতে হলে প্রয়োজন ছিল ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন। কিন্তু পক্ষে পড়ল মাত্র ২৯৮টি ভোট, বিপক্ষে ২৩০টি। ফলে বিলটি খারিজ হয়ে গেল।
বিরোধিতার নেতৃত্বে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বললেন, “এটা মহিলা বিল নয়, মহিলা বিলের নামে ৫৪৩টা সিট বাড়াতে চেয়েছিল। দেশটাকে ভাগ করতে চেয়েছিল। আমরা পরাস্ত করেছি। আমাকে ২০ জন সাংসদ পাঠাতে বলেছিল, আমি ২১ জন সাংসদ পাঠিয়েছি।”
তৃণমূলের যুক্তি সরল: মহিলা সংরক্ষণের ২০২৩ সালের আইনের পক্ষে তারা। কিন্তু এই বিলটি আসলে মহিলাদের আড়ালে দক্ষিণ ভারতের সংসদীয় আসন কাটছাঁট করে উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলির, বিশেষত বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির, আসনসংখ্যা বাড়ানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল। ডিএমকে-র তরফেও একই বক্তব্য উঠে এল: “আমরা ২০২৩ সালের নারী কোটা আইনের পক্ষে, কিন্তু বর্তমান বিলটির লক্ষ্য হল সীমানা নির্ধারণ।”
কিন্তু বিজেপি এই ব্যাখ্যাকে মানতে নারাজ। তাদের রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই।
বিরোধিতার নেতৃত্বে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বললেন, “এটা মহিলা বিল নয়, মহিলা বিলের নামে ৫৪৩টা সিট বাড়াতে চেয়েছিল। দেশটাকে ভাগ করতে চেয়েছিল। আমরা পরাস্ত করেছি। আমাকে ২০ জন সাংসদ পাঠাতে বলেছিল, আমি ২১ জন সাংসদ পাঠিয়েছি।”
তৃণমূলের যুক্তি সরল: মহিলা সংরক্ষণের ২০২৩ সালের আইনের পক্ষে তারা। কিন্তু এই বিলটি আসলে মহিলাদের আড়ালে দক্ষিণ ভারতের সংসদীয় আসন কাটছাঁট করে উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলির, বিশেষত বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির, আসনসংখ্যা বাড়ানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল। ডিএমকে-র তরফেও একই বক্তব্য উঠে এল: “আমরা ২০২৩ সালের নারী কোটা আইনের পক্ষে, কিন্তু বর্তমান বিলটির লক্ষ্য হল সীমানা নির্ধারণ।”
কিন্তু বিজেপি এই ব্যাখ্যাকে মানতে নারাজ। তাদের রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই।
বিজেপির রাজনৈতিক পাল্টা: ‘মহিলা বিরোধী তৃণমূল’
বিলটি পাশ না হওয়ার পরই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে নামে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণে সরাসরি নাম করে তৃণমূল, কংগ্রেস ও ডিএমকেকে ‘নারীশক্তির বিরোধিতার পাপ’ করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, “মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তৃণমূলের কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ তারা নষ্ট করল।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি বললেন, “মহিলা বিরোধী জোট। তৃণমূলের আসল স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। এর উচিৎ শিক্ষা দেবে বাংলার মা-বোনেরা।”
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটা স্বাভাবিক: বাংলার মহিলা ভোটাররা কি সত্যিই এই “শিক্ষা” দেবেন?
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটা স্বাভাবিক: বাংলার মহিলা ভোটাররা কি সত্যিই এই “শিক্ষা” দেবেন?
মমতার মহিলা শক্তি: সংখ্যা এবং বাস্তবতা
বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে মহিলা ভোট যে মমতার অন্যতম প্রধান শক্তি, সেটি বিতর্কের বাইরে। বিশ্লেষকরা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিনবার ক্ষমতায় আসার পিছনে মহিলা ভোট একটা বড় ভূমিকা নিয়েছে। ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪ — প্রতিটি নির্বাচনে দেখা গেছে, মহিলা ভোট তৃণমূলের ক্ষেত্রে একাট্টাভাবে পড়েছে।
এই ভোটের ভিত্তি শুধু আবেগ নয়, এর পিছনে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট কল্যাণমূলক কাঠামো। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পই তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। রাজ্যের কোটি কোটি মহিলা প্রতি মাসে সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাচ্ছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করেছে। এই প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক সম্পর্কটি মহিলা ভোটারদের সঙ্গে তৃণমূলের একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করেছে যা বিমূর্ত সংসদীয় বিল থেকে অনেক বেশি বাস্তব।
এই ভোটের ভিত্তি শুধু আবেগ নয়, এর পিছনে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট কল্যাণমূলক কাঠামো। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পই তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। রাজ্যের কোটি কোটি মহিলা প্রতি মাসে সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাচ্ছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করেছে। এই প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক সম্পর্কটি মহিলা ভোটারদের সঙ্গে তৃণমূলের একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করেছে যা বিমূর্ত সংসদীয় বিল থেকে অনেক বেশি বাস্তব।
ফাটলের সম্ভাবনা: বিজেপির কৌশল কতটা কার্যকর হতে পারে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহিলা সংরক্ষণ বিলের এই পরাজয়কে বিজেপি আগামী নির্বাচনগুলোতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। একদিকে মোদী সরকার নিজেদের নারীশক্তির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তুলে ধরবে, অন্যদিকে তৃণমূলকে ‘নারী উন্নয়ন বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার কৌশল নেবে।
এই কৌশলের একটি যুক্তিসংগত ভিত্তি আছে। তৃণমূল অবশ্যই ৩৩ শতাংশের অনেক বেশি মহিলা সদস্যকে লোকসভায় পাঠিয়েছে, কিন্তু আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তৃণমূলকে পাশে পাওয়া যায়নি। এই দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেই বিজেপি প্রচারে যেতে পারে। বিশেষত, সাধারণ মহিলা ভোটারদের কাছে বিলটির জটিল আসন পুনর্বিন্যাসের দিকটি বোঝানো কঠিন — তাঁরা হয়তো শুধুটুকুই বুঝবেন যে একটি “মহিলা বিল”-এর বিরোধিতা করেছে তৃণমূল।
তবে এই কৌশলের সামনে কিছু বাধাও আছে।
এই কৌশলের একটি যুক্তিসংগত ভিত্তি আছে। তৃণমূল অবশ্যই ৩৩ শতাংশের অনেক বেশি মহিলা সদস্যকে লোকসভায় পাঠিয়েছে, কিন্তু আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তৃণমূলকে পাশে পাওয়া যায়নি। এই দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেই বিজেপি প্রচারে যেতে পারে। বিশেষত, সাধারণ মহিলা ভোটারদের কাছে বিলটির জটিল আসন পুনর্বিন্যাসের দিকটি বোঝানো কঠিন — তাঁরা হয়তো শুধুটুকুই বুঝবেন যে একটি “মহিলা বিল”-এর বিরোধিতা করেছে তৃণমূল।
তবে এই কৌশলের সামনে কিছু বাধাও আছে।
তৃণমূলের ঢাল: প্রতিরক্ষার তিনটি স্তর
প্রথমত, ওবিসি সংরক্ষণের প্রশ্ন। তৃণমূল সহ অনেক বিরোধী দলের দাবি ছিল, মহিলা সংরক্ষণের মধ্যে ওবিসি মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ থাকা উচিত। বাংলার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মহিলা ভোটার পিছিয়ে পড়া শ্রেণির — তাঁদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে পারলে তৃণমূল নিজেদের “প্রকৃত মহিলা-হিতৈষী” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরাসরি প্রভাব। সংসদে কোন বিল পাশ হল বা হল না, সেটি রাজ্যের গ্রামীণ মহিলাদের কাছে অনেকটাই বিমূর্ত। কিন্তু প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা সরাসরি তাঁর হাতে আসে — এটি বাস্তব। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক নির্বাচনের মুখে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কার্যকর করে মহিলাদের বিপুল ভোট টেনেছিলেন। এই ইতিহাস এবার বিজেপির অস্ত্রের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সেরা ঢাল। তৃতীয়ত, আসন পুনর্বিন্যাসের ভয়। বাংলা এবং অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের একটি বড় আশঙ্কা হল, আসন পুনর্বিন্যাস হলে বড় জনসংখ্যার উত্তরপ্রদেশ-বিহারের মতো রাজ্যের লোকসভা আসন বাড়বে, আর তুলনামূলকভাবে বাংলার সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হবে। এই রাজ্যের স্বার্থরক্ষার যুক্তিটি প্রাসঙ্গিক এবং ব্যাপকভাবে বোধগম্য।
বিজেপির পাল্টা অস্ত্র: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
রাজনৈতিক যুদ্ধটা শুধু বিলের ঘরে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলার ভোটে মহিলাদের অর্থনৈতিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি এখন সব দলের কেন্দ্রীয় বিষয়। বিজেপি রাজ্যে সরকার গড়লে মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — যা তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ঠিক দ্বিগুণ। এই “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার”-এর মাধ্যমে বিজেপি মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুটিকে একটি বৃহত্তর নারী-কল্যাণের আখ্যানের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছে।
মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিষয়টি তাই শুধু সংসদীয় অঙ্কের মধ্যে নেই — এটি এখন বাংলার মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে একটি সামগ্রিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে।
মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিষয়টি তাই শুধু সংসদীয় অঙ্কের মধ্যে নেই — এটি এখন বাংলার মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে একটি সামগ্রিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষণ: প্রভাব পড়বে, তবে নির্ধারক নয়
বিশেষ করে বাংলার প্রেক্ষাপটে, যেখানে মহিলা ভোট তৃণমূলের প্রধান শক্তি, সেখানে বিজেপি প্রচার করবে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মুখে সংরক্ষণের কথা বললেও বাস্তবে আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরিতে সায় দেয়নি। এই ন্যারেটিভ কিছুটা হলেও কাজ করতে পারে — বিশেষত শহরাঞ্চলের শিক্ষিত মহিলা ভোটারদের মধ্যে।
কিন্তু গ্রামীণ বাংলায়, যেখানে তৃণমূলের ভোটের মূল ঘাঁটি, সেখানে বিচার হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা এসেছে কিনা, রেশন পাওয়া গেছে কিনা, স্বাস্থ্যসাথী কাজ করেছে কিনা — এই সব প্রত্যক্ষ প্রশ্নের ভিত্তিতে। বিমূর্ত সাংবিধানিক সংরক্ষণের রাজনীতি তাৎক্ষণিক জীবনমান উন্নয়নের পরীক্ষায় প্রায়ই পিছিয়ে পড়ে। তা ছাড়া, তৃণমূলের নিজস্ব মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা এবং দলের মধ্যে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকা একটি বিকল্প আখ্যান তৈরি করে — যুক্তিটা সহজ: সংরক্ষণের আইন না থাকলেও তৃণমূল সত্যিকারের মহিলা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব তৈরি করেছে।
কিন্তু গ্রামীণ বাংলায়, যেখানে তৃণমূলের ভোটের মূল ঘাঁটি, সেখানে বিচার হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা এসেছে কিনা, রেশন পাওয়া গেছে কিনা, স্বাস্থ্যসাথী কাজ করেছে কিনা — এই সব প্রত্যক্ষ প্রশ্নের ভিত্তিতে। বিমূর্ত সাংবিধানিক সংরক্ষণের রাজনীতি তাৎক্ষণিক জীবনমান উন্নয়নের পরীক্ষায় প্রায়ই পিছিয়ে পড়ে। তা ছাড়া, তৃণমূলের নিজস্ব মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা এবং দলের মধ্যে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকা একটি বিকল্প আখ্যান তৈরি করে — যুক্তিটা সহজ: সংরক্ষণের আইন না থাকলেও তৃণমূল সত্যিকারের মহিলা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব তৈরি করেছে।
উপসংহার: রাজনীতির এক জটিল হিসাব
মহিলা সংরক্ষণ বিলে তৃণমূলের বিরোধিতা বাংলার ভোটে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে — বিশেষত বিজেপি এই বিষয়টিকে আক্রমণাত্মকভাবে প্রচারে ব্যবহার করবে বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু এই একটি ইস্যুই তৃণমূলের মহিলা ভোটভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। বাংলার মহিলা ভোটার মূলত কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তব সুবিধাভোগী হওয়ার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভোট দেন — এবং সেই ক্ষেত্রে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প তৃণমূলকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
তবু রাজনীতিতে ন্যারেটিভের নিজস্ব শক্তি থাকে। “মহিলা বিরোধী তৃণমূল”-এর গল্পটি বারবার বলা হলে একটি বিষবাষ্প তৈরি হতে পারে — যার ক্ষতি হয়তো সংখ্যায় ধরা না গেলেও রাজনৈতিক পরিবেশে অনুভূত হবে। তাই এই বিলটি হয়তো বাংলার ভোটের নির্ণায়ক ইস্যু হবে না, কিন্তু ২০২৬-এর লড়াইয়ে একটি অতিরিক্ত যুদ্ধক্ষেত্র যে তৈরি হয়ে গেল — তা নিশ্চিত।
তবু রাজনীতিতে ন্যারেটিভের নিজস্ব শক্তি থাকে। “মহিলা বিরোধী তৃণমূল”-এর গল্পটি বারবার বলা হলে একটি বিষবাষ্প তৈরি হতে পারে — যার ক্ষতি হয়তো সংখ্যায় ধরা না গেলেও রাজনৈতিক পরিবেশে অনুভূত হবে। তাই এই বিলটি হয়তো বাংলার ভোটের নির্ণায়ক ইস্যু হবে না, কিন্তু ২০২৬-এর লড়াইয়ে একটি অতিরিক্ত যুদ্ধক্ষেত্র যে তৈরি হয়ে গেল — তা নিশ্চিত।