Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: শুক্রবার মধ্যরাত থেকে লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামিয়ে দেওয়ার এই চুক্তিটি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা দূর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতার পর ইজরায়েল এবং লেবানন উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তারা এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হিজবুল্লাহ গত বৃহস্পতিবার তাদের বিবৃতিতে সরাসরি যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে যে, তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ “পরিস্থিতির বিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে।”
যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত দুই পক্ষই পরস্পরের লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র হামলা চালিয়েছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
যুদ্ধবিরতির রূপরেখা ও শর্তাবলী
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মেমো অনুযায়ী, এই ১০ দিনে ইজরায়েল কোনো ধরনের “আক্রমণাত্মক অভিযান” চালাবে না। তবে আত্মরক্ষার স্বার্থে তারা “প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার” সংরক্ষিত রাখবে। অন্যদিকে, লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব হামলা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
যদিও লেবানন সরকারের ওপর হিজবুল্লাহর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই এবং গোষ্ঠীটি দেশটির সেনাবাহিনীর চেয়েও শক্তিশালী, তবে অতীতে লেবানন সরকারের মধ্যস্থতায় হওয়া বিভিন্ন চুক্তি হিজবুল্লাহ মেনে চলার নজির রেখেছে।
মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ওপর প্রভাব
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলতি দু-সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী সপ্তাহেই শেষ হওয়ার কথা। ইরান শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিল যে, তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ না হলে শান্তি আলোচনা সম্ভব নয়। লেবাননের এই যুদ্ধবিরতি সেই জটিলতা নিরসনে সহায়ক হবে।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সম্ভবত এই সপ্তাহান্তেই ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হতে পারে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারলে এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশ একটি সমঝোতার খুব কাছে অবস্থান করছে।
অনিশ্চয়তায় ঘরছাড়ারা
যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনই ঘরে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। ইজরায়েল সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বর্তমান সংঘাত থামলেও তারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ অধিকৃত রাখতে চায়।
লেবানন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দফায় যুদ্ধে দেশটিতে এ পর্যন্ত ২,১০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী তাদের ১৩ জন সৈন্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।